স্বপ্নের কিডস মিডিয়া

>> জসিম উদ্দিন

 

স্বপ্নবাজ তরুণ আরিফ রহমান শিবলী। ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বড়ো হয়েছেন। বাবার ব্যবসায় লোকসানের কারণে ছোটবেলাতেই সংসারের টানাপোড়ন প্রত্যক্ষ করেছেন। পরীক্ষার ফি দিতে না পারার জন্য একসময় তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ায় হয়েছে। এমন শত কষ্টের মাঝেও স্বপ্ন দেখতে ভুলেননি। প্রতি মুহূর্তেই স্বপ্ন দেখেন, নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলবেন যেন অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করতে পারেন। এরপর এগোতে থাকেন নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে। স্কুলজীবনেই কাজ শুরু করেন বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে। এরপর আরো কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলসহ অনেক জনপ্রিয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন এই স্বপ্নবাজ তরুণ।

তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শিশু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও শিশুদের জন্য সাংবাদিকতা শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম ‘এ আর কিডস মিডিয়া’। যেখানে শিশুদের সাংবাদিকতা বিষয়ে শেখানো হয়। বিভিন্ন মিডিয়ার জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিরা এখানে এসে ক্লাস নেন। শিশু-কিশোর ও অভিভাবক মহলে তুমুল সাড়া ফেলে এ আর কিডস মিডিয়া শুরু থেকেই।

কিডস মিডিয়ায় শেখানো কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউজ রিপোর্টিং, নিউজ কাস্টিং, সংবাদ উপস্থাপন, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো শিশুরা যখন কোনো জায়গায় অ্যাসাইনমেন্ট করতে যায়, মানুষ তাদের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে ২০২০ সালে তাদের আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন, শিশুদের তিনি বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যাবেন। তারা যেন সেখানের আসল পরিবেশটি চিনতে পারেন। সাংবাদিকতা শিক্ষার পাশাপাশি তারা যেন মানবিক ও সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয় সেভাবে কাজ শুরু করবেন। তাছাড়া ক্যামেরা পরিচালনা, প্রোডাকশনের কাজের জন্য কোনো ডিরেক্টর নিয়ে আসবেন। যাতে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতার পাশাপাশি নির্মাতাও হতে পারে। শুরুর দিকে কিডস মিডিয়া কার্যক্রম ঢাকাব্যাপী ছিল। বর্তমানে তারা দেশব্যাপী কাজ করছে। ২০২৩ সালের মধ্যে তারা দক্ষিণ এশিয়াব্যাপী কাজ করতে চান। যার জন্য বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলছেন কিডস মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী আরিফ রহমান শিবলী।

কিডস মিডিয়ার পাশাপাশি তিনি শিশুদের ভাগ্য উন্নয়নেও কাজ করেন। সাধারণত যেসকল শিক্ষার্থীরা টাকার অভাবে পড়তে পারে না। পত্রপত্রিকার তাদের নিয়ে নিউজ হয়, তিনি সেই নিউজগুলো কাটিং করে রেখে দেন। তারপর সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের জন্য ফ্রি পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেন। এভাবে তিনি প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। শিবলী রহমান তার ফেসবুক পেজে এদেশে চলমান সালিশের নামে শিশুর প্রতি অত্যাচার নিয়ে পোস্ট করলে তা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের যেন আর কষ্ট করতে না হয় তার জন্য তিনি একটি ফাউন্ডেশন গঠন করবেন। যেখানে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে অথেন্টিক রিপোর্টগুলো আসে তাদের সহায়তা করবে।’ তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার পরামর্শ কী জানতে চইলে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন দশজন উদ্যোক্তা নিয়ে আমি একটি বড়ো প্রজেক্ট শুরু করছি। যার ফলে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তরুণদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো পড়াশোনা করে চাকরির জন্য নয়, অন্যকে যেন তারা চাকরি দেয়, এটার জন্য কাজ করতে হবে।’ পড়াশোনা করে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।