ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-প্রথমপত্র
মো. কবির হোসেন (সুজন)
সিনিয়র প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, খিলক্ষেত, ঢাকা।
প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, শুভাশিস রইল। অল্প কিছুদিন পর পরীক্ষা। তোমাদের সুবিধার্থে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ২য় পত্র হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো। আশা করি তা তোমাদের সংগ্রহে থাকবে।
উদ্দীপক: বড়-মাঝারী, সরকারি - বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, বিশেষায়িত সকল প্রতিষ্ঠানে লেনদেন যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ এবং সংরক্ষণ হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য একটি বিভাগ সারাবছর পর্যায়ক্রমে কাজ করেন। এই ধরণের সকল প্রতিষ্ঠানে শুরুতে সংখ্যাত্মক পরিকল্পনা তৈরীর পাশাপাশি বিভাগ সমূহের কার্যফলগুলো পরিকল্পনার সাথে মিলিয়ে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
ক) সামগ্রিক পরিকল্পনা কী?
খ) নিয়ন্ত্রণ পরবর্তী পরিকল্পনার ভিত্তি হয় কীভাবে?
গ) উপরের উদ্দীপকে সারা বছর কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ কৌশল চলমান থাকে? আলোচনা কর।
ঘ) উদ্দীপকে বর্তমানে যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করা হয় তার যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর: প্রতিষ্ঠানের সকল বিভাগ, উপবিভাগ, শাখা বা অঞ্চলের যাবতীয় কার্যাবলির জন্য প্রধান কার্যালয়ের মুখ্য নির্বাহী কর্তৃক একত্রিত করে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে সামগ্রিক পরিকল্পনা বলা হয়।
উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর: নিয়ন্ত্রণ হলো পূর্বনির্ধারিত আদর্শ মানের সাথে প্রকৃত কার্যফল তুলনা করে নির্ণীত বিচ্যুতি সংশোধনের কার্য ব্যবস্থা বিশেষ।
ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ কাজ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য হলো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিচ্যুতি বা ভুল নির্ণয় করে পরবর্তীতে সে ভুল সংশোধনের জন্য যে কার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তা পরিকল্পনার অংশ। পরিকল্পনার আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধনীমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা আবার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োগ করা হয়। যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রম ঘন্টার অপচয় রোধের জন্য নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে হয়। অর্থাত্ নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্যুতি পরিকল্পনায় এনে আবার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োগ করা হয়। তাই বলা যায় নিয়ন্ত্রণ পরবর্তী পরিকল্পনার ভিত্তি।
উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর: উপরের উদ্দীপকে নিয়ন্ত্রণ কৌশল অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষণ সারাবছর প্রতিষ্ঠানে চলমান থাকে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে হিসাব সংক্রান্ত কাজের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ক্রটি-বিচ্যুতি নিরূপন ও সংশোধন করার ব্যবস্থাকে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষণ বা অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বলা হয়। এটি নিয়ন্ত্রণ এর সাধারণ এবং বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় একটি কৌশল।
উপরের উদ্দীপকে বড়-মাঝারী, সরকারি - বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, বিশেষায়িত সকল প্রতিষ্ঠানে লেনদেন যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ এবং সংরক্ষণ হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য একটি বিভাগ সারাবছর পর্যায়ক্রমে কাজ করে। এটি প্রতিষ্ঠানের একটি অভ্যন্তরীন বিভাগ। এই বিভাগের কাজ হলো হিসাব ও লেনদেন সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম দূরীকরণ সহ নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রয়োগ করা। যার ফলে লেনদেন সঠিক ভাবে লিপিবদ্ধসহ হিসেবে স্বচ্ছতা ফিরে আসে। এই বিভাগটি সারা বছর প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বলে এখানে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কৌশলের কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর: উদ্দীপকে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ বলতে বাজেটিয় নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে।
পরিকল্পনার সংখ্যাত্মক প্রকাশকেই বাজেট বলে আর এ সংখ্যাত্মক মানের উপর ভিত্তি করে যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে বাজেটিয় নিয়ন্ত্রণ বলা হয়।
উপরের উদ্দীপকে সকল প্রতিষ্ঠানে শুরুতে সংক্ষাত্মক পরিকল্পনা তৈরীর পাশাপাশি বিভাগ সমূহের কার্যফলগুলো পরিকল্পনার সাথে মিলিয়ে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এখানে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বলতে প্রতিষ্ঠানের গৃহীত পরিকল্পনা,জারিকৃত নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠিত নীতি মোতাবেক সবকিছু ঘটছে কিনা তা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। তাই পরিকল্পনার সাথে মিলিয়ে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বলতে বাজেটিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে নিয়ন্ত্রণ কৌশল সমূহের মধ্যে বাজেটিয় নিয়ন্ত্রণ একটি অতি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কৌশল। এই নিয়ন্ত্রণের বাজেট বিভিন্ন ধরণের হতে পারে যথা-মূলধন বাজেট, আয়-ব্যয় বাজেট, বিক্রয় বাজেট ইত্যাদি। এই বাজেটের আলোকে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। আদর্শমানসমূহ বিবেচনায় নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান বা বিভাগ যখন উত্পাদন বিক্রয় এবং আয় ব্যয়ের একটি আগাম সংখ্যাত্মক পরিকল্পনা নেয় তখন তা বাজেট হিসেবে গণ্য হয়।