কপোতাক্ষ নদে সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়নি ১৮ বছরেও!

কানাইদিয়া-কপিলমুনি পয়েন্ট

g গাজী জাহিদুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে কংক্রিটের পিলার উঠেছিল কপোতাক্ষ নদের তালা উপজেলার কানাইদিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি পয়েন্টে। কিন্তু ১৮ বছরেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ। এই সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এখন বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পার হচ্ছেন কপোতাক্ষ নদ।

জানা গেছে, গতিহীন হয়ে পড়েছে এলাকার ব্যবসাবাণিজ্য। উত্পাদিত ফসলও সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারছেন না তারা। মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়েই পার করতে বাধ্য হচ্ছে মোটরসাইকেল ও মালবোঝাই ভ্যান। এতে ইতোমধ্যে অনেকেই হয়েছেন দুর্ঘটনার শিকার।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরালো করার লক্ষ্যে কপোতাক্ষ নদের ওপর কপিলমুনি-কানাইদিয়া পয়েন্টে ২০০০ সালে এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০০৩ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আংশিক কাজের পর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা হয়।

স্থানীয় গ্রাম্য চিকিত্সক আজিজুর রহমান বলেন, বয়স হয়েছে, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে ভয় লাগে। অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে নদীতে পড়ে আহত হয়েছেন। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওপারে যেতে হয়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজু জানায়, সাঁকো দিয়ে পার হতে গেলে সেটি নড়াচড়া করে, পার হয়ে স্কুলে যেতে ভয় লাগে।

ব্যবসায়ী পলাশ কর্মকার বলেন, ব্রিজটি নির্মিত না হওয়ায় নানাভাবেই পিছিয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুনি বাজার। এলাকার ব্যবসাবাণিজ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এক কথায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছি আমরা।

তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আনারুল হক বলেন, কপোতাক্ষ নদের ওপারে কপিলমুনি খুলনার একটি বড়ো বাণিজ্য কেন্দ্র। আমাদের উপজেলায় উত্পাদিত কৃষি ফসলের একটি বড়ো অংশ কপিলমুনি বাজারে বিক্রি হয়। ব্রিজের অভাবে উত্পাদিত ফসল ওপারে নিয়ে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। বাঁশের সাঁকো দিয়ে মালবোঝাই ভ্যান পার করা কঠিন হয়ে পড়ে। সব জটিলতা কাটিয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এলাকাবাসী খুবই উপকৃত হবেন। 

তালার জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, কানাইদিয়া-কপিলমুনি পয়েন্টে ব্রিজ নির্মিত হলে দুই জেলার মানুষই বেশ উপকৃত হতো। কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ ১৮ বছরে তা শেষ হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।