হারেই শেষ সিলেটের
স্পোর্টস রিপোর্টার
বিপিএলের শুরু থেকে ইনিংস ওপেন করছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ৩০-৪০ রানে আটকে যাচ্ছিল তার ইনিংসগুলো। এরপর নেমে এলেন মিডল অর্ডারে। ৪ নম্বরে নেমে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে ৪৮ বলে ৮৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন। দুই ম্যাচ পর গতকাল সিলেট থান্ডার্সের বিপক্ষে ৫ নম্বরে নেমে ৩০ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন। আপাতত মনে হচ্ছে নিজেকে মিডল অর্ডারেই বেশি মানিয়ে নিতে পারছেন সৌম্য সরকার।
আর সৌম্য সরকারের এই ইনিংসের সঙ্গে যোগ হয়েছিল এবারের সফলতম ব্যাটসম্যান ডেভিড মালানের আরেকটি ফিফটি। এ দুই ইনিংসে ভর করে কঠিন এক ম্যাচ জিতল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ৫ উইকেটে হারাল তারা সিলেট থান্ডার্সকে।
এই পরাজয়ের ভেতর দিয়ে এবারের বিপিএল শেষ হলো সিলেটের। ১২ ম্যাচে একটি মাত্র জয় পাওয়া সিলেট গতকাল শেষ ম্যাচেও হার নিয়ে বাড়ি গেল।
সিলেটের পরাজয় নিয়ে বলতে গিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক আন্দ্রে ফ্লেচার বলছিলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আমরা খুবই বাজে ক্রিকেট খেলেছি। এ ধরনের ক্রিকেট দিয়ে এরকম একটা টুর্নামেন্টে টিকে থাকা কঠিন। আমরা নিজেদের কাজটা করতে পারিনি।’
এমনকি টানা খেলার অজুহাতও দিতে রাজি নন তিনি। বলছিলেন, ‘পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সূচি যেমনই হোক, আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’
এই ম্যাচ জয়ের ভেতর দিয়ে সেরা চারে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল কুমিল্লা। দলটির অধিনায়ক ও দিনের সেরা খেলোয়াড় মালান বলছিলেন, তার কাছে সৌম্য দিনের সেরা খেলোয়াড়। আর সেই সঙ্গে নিজেদের সেরা চারে তোলার জন্য যা করার দরকার, তাই করতে চান তিনি, ‘আমাদের এখন বাকি দুই ম্যাচ জিততে হবে এবং অন্যদের হার কামনা করতে হবে।’
উইকেটটা একটু কঠিন ছিল বলেই মনে হয়েছে। ভালো ভালো শুরু পেলেও রান খুব বড়ো করতে পারেনি সিলেট। তাদের ওপেনার আব্দুল মজিদ ৪০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন। আর শেষ দিকে এসে জীবন মেন্ডিস ১১ বলে ২৩ রানের একটা ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ২টি করে উইকেট নেন আল আমিন ও ডেভিড ওয়াইজ। সৌম্য ২ ওভার বল করে মাত্র ৭ রান খরচ করেন।
জবাব দিতে নেমে কুমিল্লার অবস্থা আরও খারাপ ছিল। ৪ ওভারে ১০ রান তুলতেই হারিয়েছিল তারা ২ উইকেট। ৮ ওভারে ৩২ রান তুলতে পেরেছিল তারা। একসময় আস্কিং রানরেট ১০-এর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে ম্যাচটাকে প্রথম কাছে নিয়ে আসতে শুরু করেন অধিনায়ক মালান। তিনি ৪৯ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন।
আর সৌম্য-ঝড়ে জয় নিশ্চিত করে তারা। সৌম্য ৩০ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
সিলেট থান্ডার্স :২০ ওভারে ১৪১/৫ (মজিদ ৪৫, চার্লস ২৬, মেন্ডিস ২৩, ফ্লেচার ২২; আল আমিন ২/৩০, ওয়াইজ ২/৩১)।
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স :১৯.১ ওভারে ১৪২/৫ (মালান ৫৮, সৌম্য ৫৩*; নাঈম ৩/২১)।
ফল : কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ :ডেভিড মালান