খাতুনগঞ্জে অস্থির ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার। চিনি, সয়াবিন, পামঅয়েল, পেঁয়াজ ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিটি পণ্য বিক্রি নিয়ে রয়েছে সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির দোহাই দিয়ে এক বছর আগের কেনা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। অথচ নতুন দামে কেনা পণ্য দেশে পৌঁছতে আরো সময় লাগবে। প্রশাসনিক ভাবে বাজার মনিটরিং হচ্ছে না।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, সয়াবিন ও পামঅয়েলের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। গত এক মাসে পামঅয়েলের দাম প্রতিমণে ৮০০/৯০০ টাকা বেড়েছে। গতকাল খাতুনগঞ্জে প্রতিমণ পামঅয়েল বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ১১০ টাকা। আর সয়াবিন বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ ৩ হাজার ৩৩০ টাকা। খাতুনগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এখানে প্রতিটি পণ্য নিয়ে সিন্ডিকেট রয়েছে। মিলমালিক থেকে পরিবেশক ও পাইকারি বিক্রেতা পর্যন্ত সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম ওঠানামা চলছে।
স্লিপের মাধ্যমে কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। যে পরিমাণ মাল আছে তার চেয়ে বেশি স্লিপ বেচাকেনা হয়েছে। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মিডিয়ার কাছে কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিমণে ১০/২০ টাকা কম বলে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি আড়ালের চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এম এন্টারপ্রাইজের মালিক আলমগীর পারভেজ সয়াবিন, পামঅয়েল, চিনি বিক্রি করেন। গত রবিবার তিনি বলেছিলেন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বুকিং দাম বেড়েছে। তাই এখানে দাম বেড়ে গেছে। গতকাল তিনি ইত্তেফাককে বলেন, সয়াবিন প্রতিমণ ৩৪০০ থেকে কমে ৩৩৫০ টাকা ও ৩১১০ টাকা থেকে কমে ৩১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির দামও কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রতিমণ ২১৭০ টাকা থেকে কমে ২১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’ অন্যদিকে খুচরা বাজারে চিনি ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গতকাল এলাচির কেজি ছিল ৩ হাজার ৯০০ টাকা। এ বি ট্রেডিংয়ের মালিক অমর দাশ ইত্তেফাককে বলেন, এলাচির দাম সহসা কমবে না। ভারতে কেজি ৪ হাজার টাকা। তাই ভারত থেকে ব্যবসায়ীরা এলাচি আনছেন না। তবে স্লিপ বেচাকেনায় খাতুনগঞ্জের বাজারকে নষ্ট করে ফেলেছে। ঢাকায় এ ধরনের স্লিপ বিক্রি নেই। যে পরিমাণ মাল আছে তার কয়েকগুণ স্লিপ বিক্রি হয়েছে। এটা বন্ধে প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন।’ অপরদিকে তিনটি কারণে চিনির মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজেটে আমদানি শুল্কবৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্যবৃদ্ধি। আগে কেজিতে আমদানি শুল্ক ছিল ১৩ টাকা। এখন কেজিতে ২২ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে।