ইরানের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে ফেঁসে গেছেন ট্রাম্প

জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাংস্কৃতিক স্থাপনাতে হামলার লক্ষ্যবস্তু বলে হুমকি দিয়েছেন। হুমকি দিয়ে ফেঁসে গেছেন ট্রাম্প। কেননা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনায় সামরিক হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

মানব সভ্যতার অন্যতম স্থান ইরান। তাদের রয়েছে সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেই আছে তাদের বিশটি সাংস্কৃতিক স্থানের নাম। গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাংস্কৃতিক স্থাপনার কথা তুলে ধরা হল-

নকশ-ই-জাহান চত্ত্বর: ইসফাহান নগরীর কেন্দ্রে অবস্থিত এটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বিশাল নগর চত্ত্বরের একটি। তৈরি করা হয়েছিল সপ্তদশ শতাব্দীতে। এটি ইমাম চত্ত্বর নামেও পরিচিত।

তেহরানের গুলেস্তান: এটি একটি রাজকীয় প্রাসাদ। উনিশ শতকের কাজার রাজপরিবারের সরকারি বাসভবন ছিল এটি। পুরো প্রাসাদটির বাইরের এবং ভেতরের দেয়ালগুলো সুন্দর কারুকাজ করা। 

পার্সিপোলিস: প্রাচীন আকিমেনিদ সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পার্সিপোলিস। এই নগরী স্থাপিত হয় খ্রিস্টপূর্ব ৫১৫ সালে। ইউনেস্কো এটিকে ১৯৭৯ সালে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলে ঘোষণা করে। 

আরগ-ই-বাম দূর্গ: প্রাচীন যুগে মাটি দিয়ে তৈরি করা সবচেয়ে বড় দূর্গ আরগ-ই-বাম।  পশ্চিমের সঙ্গে প্রাচ্যের যে প্রাচীন বাণিজ্য পথ, সিল্ক রোড বলা হয় যাকে, সেই পথের ওপর ছিল এই বাম দুর্গ।

আজাদী টাওয়ার: ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আজাদী টাওয়ার তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। ইরান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার আড়াই হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে এটি তৈরি করা হয়। তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটির নাম বদলে আজাদি স্কোয়ার রাখা হয়।

আয়াতোল্লাহ খোমেনির স্মৃতিসৌধ: এই স্মৃতিসৌধেই কবর দেয়া হয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেনিকে। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক রাজনীতিকের কবরও এখানে। আধুনিক ইরানের অন্যতম তীর্থস্থান এটি।

ইত্তেফাক/আরকেজি