এবার ঐতিহাসিক চরিত্রে

কাজলের বয়স ৪৫ চলছে। দেখতে দেখতে বলিউডে তার ২৮ বছর কেটে গেছে। ১৯৯২-এ ‘বেখুদি’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমার অঙ্গনে অভিনেত্রী হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়েছিল। ২৮ বছরের ফিল্মি ক্যারিয়ারে নায়িকা হিসেবে খ্যাতি, জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিজেকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন মুখার্জ্জি পরিবারের মেয়েটি। এখন দুই সন্তানের জননী কাজল। বড় মেয়ে নাইসার বয়স ১৭ আর ছেলে ইয়ুগের বয়স ১০। ক্যারিয়ারের শুরুর দিককার সিনেমাগুলোয় প্রাণবন্ত চঞ্চলা সতেজ তরুণীরূপে উপস্থিত হয়ে তিনি দর্শকহূদয়ে মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ‘বাজিগর’, ‘করন-অর্জুন’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘ইশক’, ‘হালচাল’, ‘পেয়ার তো হোনা হি থা’, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ ছবিগুলো যারা দেখেছেন, তাদের চোখে এখনো সেই প্রাণবন্ত তরুণী কাজলের উজ্জ্বল-উচ্ছল ভাবটি যেন অম্লান। তার যে বয়স বেড়েছে, তিনি নিজেই যে এক তরুণী কন্যার জননী—এটা মনে হলেই কেমন যেন লাগে! কিন্তু বাস্তবতাকে তো অস্বীকার করার উপায় নেই। ভারত সরকারের বেসামরিক খেতাব পদ্মশ্রী পাওয়া কাজল এ পর্যন্ত মোট ৬টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে এবং একটি সেরা ভিলেন চরিত্রের অভিনয়ের জন্য। অজয় দেবগনকে বিয়ের পরেও বলিউডে কাজলের ব্যস্ততা কিংবা চাহিদার ভাটা পড়েনি। আগের মতো সমান তালে অভিনয় করে গেছেন। দীর্ঘদিন নিজের অবস্থানকে উজ্জ্বল রেখেছেন চ্যালেঞ্জিং অভিনয়ের মাধ্যমে। গত কয়েক বছরে খুব বেশি সিনেমায় কাজলকে দেখা যায়নি। বলা যায়, ইচ্ছে করেই অভিনয়ের ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়েছেন। তবে বিভিন্ন পণ্যের অ্যাডে মাঝেমধ্যে উপস্থিত হন। গত কয়েক বছরে দক্ষিণী সিনেমা ‘ভিআইপি’, ‘হেলিকপ্টার এলা’তেও দেখা গেছে থাকে। দুটোতেই কাজল অভিনয় করেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী চরিত্রে। ‘হেলিকপ্টার এলা’য় কলেজপড়ুয়া ছেলের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘ভিআইপি’-তে দাপুটে এক কর্পোরেট নারীর ভূমিকায় তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক। নিজের বয়সের সঙ্গে মানানসই রোলেই আজকাল তিনি বেশি অভিনয় করছেন। এ সপ্তাহে আবার অনেক দিন পর কাজলের নতুন আরেকটি সিনেমা আসছে। ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল বায়োগ্রাফিক্যাল সিনেমা ‘তানহাজি’-তে অন্যতম নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল। সপ্তাদশ শতকের পটভূমিকায় ছবিটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা শিবাজি রাওয়ের প্রধান সেনাপতি তানহাজি মালুসারের বীরত্বগাঁথা তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিতে। কাজল অভিনয় করেছেন তানহাজির স্ত্রী সাবিত্রীর ভূমিকায়। তানহাজি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অজয় দেবগন। আবার অনেকদিন পর অভিনেতা স্বামীর সঙ্গে পর্দা জুটি বেঁধেছেন কাজল। এ কারণেও ঐতিহাসিক ঘটনানির্ভর ‘তানহাজি’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে একধরনের কৌতূহল ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে এমন ঐতিহাসিক ঘটনানির্ভর কোনো সিনেমায় কিংবা ইতিহাস আশ্রিত কোনো চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়নি কাজলের। স্বামী অজয় দেবগনের জন্য ‘তানহাজি’ ছবিটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল বিভিন্ন সিনেমায় বলিউডের জনপ্রিয় সুন্দরী সব নায়িকার বিপরীতে অজয় দেবগন হরদম অভিনয় করছেন। আবার অনেকদিন পর স্ত্রীর সঙ্গে অভিনয় করতে পেরে তিনি নিজেও আলাদা থ্রিল অনুভব করছেন। ‘‘তানহাজি’ ছবিটি নিঃসন্দেহে সিরিয়াস ও গুরুত্বপূর্ণ আমার ও অজয়ের জন্য। আমাকে আগে যেভাবে বলা হয়েছিল, শুটিংয়ের সময় স্বামী অজয় দেবগনের সঙ্গে অভিনয় করতে ততটা কঠিন কিংবা চ্যালেঞ্জিং মনে হয়নি আমাদের দুজনের কারোই। সহজ-সাবলীল ঘরোয়া পরিবেশেই আমরা কাজ সেরেছি।’ কাজল তার এক সাম্প্রতিক সাক্ষাত্কারে বলেছেন। তিনি বর্তমানে দুটি ইন্ডিপেনডেন্ট হিন্দি সিনেমায় কাজ করছেন। এর মধ্যে একটি হলো ‘ত্রিঙ্গা’। অন্যান্য অনেক জনপ্রিয় ব্যস্ত প্রতিষ্ঠিত তারকাদের মতো কাজলও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছেন সময়ের চাহিদা বুঝে।