শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী মধুর মেলা

আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় ফোকশিল্পী সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ভাকুম গ্রামে গত শুক্রবার শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী মধুর মেলা। প্রয়াত পিতা আধ্যাতিক বাউলশিল্পী মধু বয়াতির স্মরণে প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করে থাকেন এই ফোক সম্র্রাজ্ঞী। এই মেলায় রাত-দিন চলে বাংলাদেশের বিখ্যাত বাউলশিল্পীদের লোক সংস্কৃতি গানের পালা। সেইসঙ্গে চলে ভাব বৈঠকি ও বিচ্ছেদ গানের আসর। মানিকগঞ্জ তথা আশেপাশের জেলার লোক এ উত্সবে যোগ দেন। উত্সবকে ঘিরে ভাকুম গ্রামে মধু-উজালা বাউল কমপ্লেক্স চত্বরে হাজার হাজার লোকের যেমন সমাগম ঘটে, তেমনি ঢাকার বিশিষ্ট সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি, জাতীয় পর্যায়ের নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে গত বুধবার এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাউল গান ও লোকসংগীত জীবনের কথা বলে। আত্মার কথা বলে এবং মানুষের মনকে আত্মশুদ্ধ করে। আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতিই হচ্ছে বাউল গান। যা হাজার বছরেরও বেশি পুরনো গান। আকাশ সংস্কৃতির মধ্যে এখনো টিকে আছে বাউল গান। যেমন টিকে আছে রবীন্দ্রসংগীত। বাউলরা যখন গান গায়  মানুষের মনের কথা নিয়ে গায়। গ্রামের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। এগুলো হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের জাদুকর কৌশলের কারণেই। এখন দিন বদল আর ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। প্রবাসীরা মোবাইলের মাধ্যমে দেশে আপনজনদের সঙ্গে  কথা বলতে পারে এবং ছবিও দেখতে পারে।  টাকাও পাঠাতে পারেন। কৃষক জমিতে বসে জমিতে পোকা লেগেছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃষি অফিসারের কাছে পরামর্শ নিতে পারে। এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমাদের দেশের কাপড় এখন বিদেশে যায়। আগে বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় আসতো আমরা তা পরতাম। এখন কেউ ছেঁড়া কাপড় পড়ে না। যারা পড়ে স্টাইল করার জন্য পড়ে। এটাই হচ্ছে দিন বদলের দেশ। শেখ হাসিনাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কারণেই আজকে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হতে পেরেছি।’