মানস খালে ৩২ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতু

সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত

তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের কালিরবাজার সংলগ্ন মানস খালের ওপর ৩২ বছরেও একটি সেতুর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে স্কুল-কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৪০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সাঁকোটির মাঝখানে বাঁশের মাচা ভেঙে গেছে। স্কুল-কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালের দিকে কালীরবাজার সংলগ্ন মানস খালের ওপর তত্কালীন রংপুর জেলা বোর্ড একটি সেতু নির্মাণ করেছিল। পরে ১৯৮৮ সালের বন্যায় সেতুটি পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়ে ভেসে যায়। সেই সেতুর অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।  গিদারী ইউনিয়নের খরিয়ার চর এলাকার স্কুলশিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান জানান, সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে ভেসে যাওয়ার পর স্থানীয় জনগণ ঐ স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন নিবেদন করেছেন। স্থানীয় জনগণ নিজেরাই যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৯৮৯ সালে সেতুর জায়গায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। বর্তমানে এই সাঁকোটির মাঝখানে বাঁশের মাচা ভেঙে গেছে।

প্রধানের বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মফিদুল ইসলাম বলেন, শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে পায়ে হেঁটে ২ থেকে ৩ মাস সাঁকোর নিচ দিয়ে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এর বিকল্প কোনো সুযোগ নেই।

সাঁকো সংলগ্ন কালিরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. হাশেম মিয়া জানান, বিভিন্ন সময়ে সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানাই আমরা। কিন্তু ১৯৮৮ সালের পর গত ৩২ বছরেই ঐ সেতুটি পুনর্নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ মিয়া জানান, সাঁকোটি বর্তমানে বিধ্বস্ত হওয়ায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে দারিয়াপুর হয়ে জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। গিদারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ইদু মিয়া জানান, বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সদর উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এলজিইডির গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনকে এলাকার জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি অবহিত করে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ সমস্যার সমাধান হয়নি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, সাঁকোর স্থলে ৪৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।