মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলা সদরে দখল আর দূষণের কবলে সরকারি খাল, নদী ও হাটবাজার। এতে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া এসব স্থানে পাকা ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাল, নদী ও হাটবাজার ঘুরে এসবের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনুল হক বলেন, সরকারি নদী ও খালসহ কোনো সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় দখলের কোনো সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে এসব স্থাপনা দখলে রেখেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এগুলো স্থাপনা (উচ্ছেদ করা হবে) ভেঙে ফেলা হবে। হাটবাজারের আশপাশ, নদী ও খাল রক্ষা এবং গতিপথ ফিরিয়ে আনার জন্য এবং হাটবাজারসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো.আতোয়ার রহমান খান সাদতসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কালের বিবর্তনে বারই খাল ও বংশাই নদীর বুক ও আশপাশ স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট চক্র সরকারি এসব সম্পত্তি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা এনজিওর গবেষণা কর্মকর্তা সুমনাথ লাহিড়ী বলেন, সরকারি খাল ও নদী দখল করে ভরাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। দখলবাজ এসব ভূমিদস্যুরা পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ময়লা আবর্জনা ফেলে নদী ও খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে। এসব ময়লা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। তারপর রাতারাতি ময়লা আবর্জনার ওপর মাটি ফেলে দোকানপাট ও বাসাবাড়ি গড়ে তুলছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, পৌর এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষের। তারপরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দখল আর দূষণের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমন বলেন, যারা নদী ও খাল দখল করে ময়লা আবর্জনা ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভা ও শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আশপাশের নদী ও খাল রক্ষার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।