তীব্র শীতে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

নষ্ট হচ্ছে বীজতলা, দিশেহারা কৃষক

ইত্তেফাক ডেস্ক

দ্বিতীয় দফায়ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। অন্যদিকে টানা শীতে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। আলু, সরিষা, পেঁয়াজ ও রসুনখেতে পচন ধরেছে। লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষক। স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধ ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

দিনাজপুর:দিনাজপুরে হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বোরো বীজতলা। এতে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার চাষিরা। সরেজমিন জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, অনেক জায়গায় পলিথিনে ঢেকে রাখা হয়েছে বীজতলা। কেউ কেউ বীজতলায় ছাই প্রয়োগ করছেন।  দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শামীম আশরাফ জানান, বীজতলা রক্ষার্থে কৃষকদের জিপসাম ও ছাই প্রয়োগ করতে বলা হচ্ছে। রাতের বেলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ সকালে বীজতলায় সেচ দিয়ে চারাগাছের পাতা ও ডগা থেকে কুয়াশার ঠান্ডা পানি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ কৃষকদের দেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) :গত তিন দিন ধরে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চলছে তীব্র শীত। এতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বীজতলা। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আলুচাষিরা। অপর দিকে হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে শিশু রোগীর সংখ্যা। কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, আরো কয়েক দিন আবহাওয়া এমন থাকবে। গতকাল বুধবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পুঠিয়া (রাজশাহী) :গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার বৃষ্টির পর থেকে রাজশাহীর পুঠিয়ায় চলছে শীতের রাজত্ব। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ ও পশু-পাখী। শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরীয় বাতাসের কারণে তীব্র শীতে ফসলেরও ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শীত ও কুয়াশায় আলু, সরিষা, পেঁয়াজ ও রসুনখেতে পচন ধরেছে। অন্যদিকে কোল্ড ইনজুরির কবলে পড়েছে বোরো ধানের চারা। শীত ও কুয়াশায় ধানের চারা হলুদ বর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : তীব্র শীতে চা-শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের লোকেরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শীতের তীব্রতায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে শিশু ও বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তীব্র ঠান্ডায় কাজকর্মে স্তবিরতা দেখা দিয়েছে। হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।