মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারেই বেশি পতন ** চলতি সপ্তাহের চার দিনে কমেছে ২৩০ পয়েন্ট
ইত্তেফাক রিপোর্ট
পুঁজিবাজারে টানা চতুর্থ কার্যদিবসের মতো পতন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় ৭১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদরে পতন হয়েছে। এক্ষেত্রে ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও পতন হচ্ছে। এতে সার্বিক সূচকে এর প্রভাব পড়ছে। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ পয়েন্ট কমে গেছে। লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। চলতি সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ২৩০ পয়েন্ট হারিয়েছে ডিএসইর প্রধান সূচক।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৌলভিত্তির শেয়ার গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মতো কোম্পানিগুলো দরপতনে বেশি ভূমিকা রেখেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্রামীণফোনের মতো বড়ো কোম্পানির সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বন্দ্ব, বিদেশি ক্রেতাদের শেয়ার বিক্রির চাপ বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক সূচকগুলোর নেতিবাচক প্রবণতা শেয়ারবাজারের সূচক ও শেয়ারের দরপতনে বড়ো ভূমিকা রেখেছে।
খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল টেলিকম, ওষুধ ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে। গতকালও ব্যাংক খাতে মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ অবদান রেখেছে। এছাড়া প্রকৌশল খাত ১২ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন ১০ দশমিক ৩ শতাংশ অবদান রেখেছে। বেশির ভাগ খাতেই গতকাল নেতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ করেছে। এর মধ্যে শেয়ারদর কমেছে পাট খাতে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, টেলিকম খাতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতে কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২৮ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১৯ দশমিক ০৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৯৫৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে এবং ডিএস ৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২১ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করে।
গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন ৪ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ কোটি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হয় ২৭৯ কোটি ৯৬ লাখ ২৯ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩২৭ কোটি ৪৬ লাখ ১৭ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এদিন ৯ কোটি ৯১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৮০টি শেয়ার ১ লাখ ৫০৩ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ২৪৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে ছিল লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ। দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল এডিএন টেলিকম। দর পতনের শীর্ষে ছিল মেঘনা পেট।
অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৭৫ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে ৭ হাজার ৮০৬ দশমিক ০৫ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে ১২ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২১৯টি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১৪৬টির, অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির দর।