ঢাবি বাস কমিটি ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ
আরফিন শরিয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসের কয়েকটি স্টপেজ নিয়ে বিতর্ক চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এমইএস, ইসিবি, কুর্মিটোলা—এসব এলাকা দিয়ে যাতায়াত করা ছাত্রীরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন ঝুঁকিপূর্ণ স্টপেজ পরিবর্তনের। তাদের দাবি ছিল ইসিবি মোড়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করা কিংবা নতুন কোনো রুট চালু করার। কিন্তু বিতর্কের দীর্ঘ ছয় বছর পার হয়ে গেলেও বাসের স্টপেজ পরিবর্তন হয়নি। ছাত্রীরাও কথা বলা বন্ধ করে দেন। গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার পর সেই বিতর্ক আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এদিকে বিতর্কের মধ্যে কারো সঙ্গে কথা না বলে গত সোমবার স্টপেজ পরিবর্তন করে দিয়েছেন বাস কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম। অথচ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল স্টপেজ ইসিবি চত্বরে করার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষণিকা বাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ২০১৮ সালে প্রথম বর্ষের দুজন শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্বের জেরে স্টপেজ এমইএস থেকে কুর্মিটোলায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু এই বাস স্টপেজ নিরাপদ স্থানে না হওয়ায় এ নিয়ে আপত্তি ছিল শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে ঐ স্টপেজের ছাত্রীরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্টপেজ পরিবর্তন করার। কিন্তু কমিটির একগুঁয়েমির জেরে সেই স্টপেজ আর পরিবর্তন হয়নি। তারা জানান, এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানীর সঙ্গেও ছাত্রীরা বসেছিলেন। কিন্তু ঐ সময় প্রক্টর বাস কমিটিকে ‘কনভিন্স’ করার কথা বলেছিলেন। ফলে স্টপেজ পরিবর্তন হয়ে যায় একেবারে অসম্ভব।
এ বিষয়ে ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের এখন এসব বিষয় নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। এখন ধর্ষকের বিচারের দাবিতে আমাদের কথা বলা উচিত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, স্টপেজ পরিবর্তন করার জন্য গত কমিটির সভাপতি রায়হানুর রহমানকে বলা হলে তিনি বলেন, ‘কারো কিছু হলে দায়িত্ব আমার।’ এ বিষয়ে কথা বলতে রায়হানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার নম্বর দেওয়া নিষেধ বলে জানিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। বর্তমান কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এসব দাবির বিষয়ে আমাকে কিছু বলেনি।’
জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বসবাসকারী জিয়া কলোনি, মাটিকাটা, মানিকদী, বালুঘাট, সিএমএইচ, বাগানবাড়ি আবাসিক এলাকার শিক্ষার্থীরাই যাতায়াত করেন। এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের বাসটি কুর্মিটোলা স্টপেজে নামিয়ে দেন। বাসটি যখন ঐ এলাকায় পৌঁছায়, তখন সন্ধ্যা হয়ে যায়। কুর্মিটোলা বাস স্টপেজে যখন তারা নামেন, তখন ঐ এলাকা নির্জন ও অন্ধকার থাকে। এই জায়গায় ছিনতাই কিংবা পকেটমারের ঘটনাও বেশি ঘটে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য এটি একেবারে অনিরাপদ।
শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। সঠিক সময়ে বাসের স্টপেজ পরিবর্তন করলে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পেতেন ঐ শিক্ষার্থী। এর জন্য দায় প্রশাসনেরও রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য আমার জানা নেই। যেখানে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে, সেখানে তারা বাস থেকে নামবে। যেহেতু তথ্যটি আমার অবগত হয়েছে, সেটি পরিবহন অফিসারকে বলে দেব।’