ইসিতে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদল

সিটি নির্বাচনের প্রচারে মহাসুবিধায় বিএনপি

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারে বিএনপি মহাসুবিধায় আছে জানিয়ে আচরণ বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার দলটির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ার?ম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে এ দাবি জানায়। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, আচারণ বিধিমালায় বিধিনিষেধের কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতা প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না।

দলটির এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের আগে আচরণবিধি সংশোধনের সুযোগ নেই। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ (এমপি) অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচার ও কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোয় কমিশনের সফলতা নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে গতকাল এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ঢাকার বাইরে থাকায় অন্য চার কমিশনার ঐ বৈঠকে অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। এক্ষেত্রে বিএনপি মহাসুবিধায় আছে। তাদের তো সব নেতাই প্রচারে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু আমাদের তো মুখে কুলুপ লাগানো (মুখ বন্ধ)।’

আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যেমন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও এমপিদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। কিন্তু ঢাকার দুই সিটি ভোটের কার্যক্রমে এমপিদের সম্পৃক্ত করেছে আওয়ামী লীগ। বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘সেটা তো দলীয় কার্যক্রম। নির্বাচনী কার্যক্রম নয়। এছাড়া নির্বাচনী প্রচার এখনো শুরু হয়নি।’

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। এ ধরনের কার্যক্রম সরকারদলীয় এমপিরা আরো করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো বলতে পারব না।’ সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি। নিয়োগ দেওয়া হলে তখন দেখব, দলীয় কেউ নিয়োগ পেয়েছে কি না।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ হোক। এজন্য সরকার কী সহায়তা করতে পারে, সেটা নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলাম।’ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, যন্ত্র আওয়ামী লীগ বা বিএনপি চেনে না। যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন, তারা বিষয়টা জানেন। সেনাবাহিনী এখানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেবে। ব্যাকআপ হিসেবে ৫০ শতাংশ মেশিন রাখা হবে। এতে একটি ইভিএমে সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি লাগিয়ে দেওয়া যায়। বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা এরকম কোনো ঘটনা দেখিনি।’

এদিকে বৈঠকের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কেবল নির্বাচনী প্রচার নয়, কোনো কার্যক্রমেই অংশ নিতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন আমাদের কাছে অনেক চ্যালেঞ্জের। কেননা, ইভিএমে ভোট করছি। কাজেই ভোটারের উপস্থিতি বাড়ানো একটা চ্যালেঞ্জ।’

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ।