ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন হামলায় কুদস প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়ে গেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। প্রতিশোধের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরাকস্থ মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কিছুটা নমনীয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কোন ধরণের পূর্বশর্ত ছাড়াই ইরানের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করতে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে দেশটি এ কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসি’র

জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানের শাসকরা যাতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে না  পারে সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য প্রস্তুত। 

জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পক্ষে সাফাই গেয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, জাতিসংঘ চার্টারের ৫১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সোলাইমানিকে হত্যা ন্যায়সঙ্গত। সোলাইমানিকে হত্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অংশ বলেও উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র। 

আলোচনার বিষয়ে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানালেও যুক্তরাষ্ট্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা প্রয়োজনে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

যুক্তরাষ্ট্রের এই চিঠির প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত মাজিদ তাখত রাভাঞ্চি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। এ অবস্থায় তাদের এমন আলোচনায় বসার প্রস্তাব রীতিমত অবিশ্বাস্য। 

আরও পড়ুন: সিরিয়াল রেপিস্ট মজনু ৭ দিনের রিমান্ড

গতকাল বুধবার ভোরে ইরাকের মাটিতে দুটি মার্কিন ঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর তারাও হামলার কারণ হিসেবে আত্মরক্ষাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। 
 
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন হামলায় কুদস প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের পাল্টা হামলার পর থেকেই উত্তেজনার মুখে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছিলেন মধ্যপ্রাচ্য ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নমনীয়তার পর ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া শান্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে। 

ইত্তেফাক/এসইউ