কাজে আসছেনা লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ কালভার্ট

খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালায় সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করলেও এর দুইপাশে নেই কোনো রাস্তা বা সংযোগ সড়ক। ফলে ব্রিজগুলো কার্যত পরিত্যক্ত। দুর্ভোগে খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-গ্রামের হাজারও জনগণ। 

জানা যায়, খাগড়াছড়ি জেলা শহরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গোলাবাড়ি এলাকায় ২০১২ সালে গোলাবাড়ি ছড়ার ওপর ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ইতিমধ্যে ব্রিজটি দেবে এর বড় অংশ বর্ষার পানিতে ধসে গিয়ে চলাচলের  অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

এলাকাবাসীরা জানান, সরকারের অনেক টাকা ব্যয়ে নির্মাণ ব্রিজটি কোনো কাজে আসেনি। এর ওপর দিয়ে একদিনও গাড়ি চলতে পারেনি। 

আরও পড়ুন: হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতার খাদ্য কর্মকর্তা

গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, খেদাপাড়ার সঙ্গে খাগড়াছড়ি সদরের যোগাযোগ সহজতর করতে  ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। 

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো দলিল অফিসে খুঁজে পাচ্ছি না। দ্রুত এর সংস্কার এবং রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে জেলার দীঘিনালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বানছড়া এলাকায় চারটি গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে একটি পাহাড়ি ছড়ার ওপর  ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু গ্রামবাসীদের কোনো উপকারে আসছেনা। 

দীঘিনালা সদর ইউনিয়নের অক্ষয়মুনি কার্বারীপাড়া, সমরেন্দু পাড়া, চন্দ্রবাহন পাড়া ও শান্তিররূপ কার্বারী পাড়ার অন্তত পাঁচশ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে ভীষণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কয়েক হাজার পাহাড়ি জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে  ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রিজের দুই পাশের এ্যাপ্রোচসহ রাস্তা নির্মাণ না করায় ব্রিজটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে বন্যায় রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, এ কারণেই স্থানীয় বাসিন্দার দাবিতে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

ইউপি চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা ও দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আলম সরকার সাংবাদিকদের জানান, ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসি