চিকিত্সার অভাবে ধুঁকছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ঝলসে যাওয়া বানরগুলো। বনের ভিতর দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের কভারবিহীন তারে জড়িয়ে ঝলসে যাচ্ছে বানর। এ বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কয়েকটি খুঁটি পরিবর্তন ও দুই তারের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েছে বোর্ড। তবে পরিবর্তন করেনি কভারবিহীন তার। খোলা তারেই বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বনবিভাগ ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি—এর ফলে বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েই গেছে।
জানা যায়, সন্তোষপুর বনাঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার বানর বসবাস করে। সাড়ে ৩ হাজার একর আয়তনের বনের ভেতর দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কভারবিহীন তার নিয়েছে পল্লী বিদ্যুত্ বিভাগ। খোলা তারে এরই মধ্যে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়েছে প্রায় ১০টি বানর। তাদের মধ্যে একটি মারাও গেছে। যেগুলো বেঁচে আছে সবগুলো চিকিত্সার অভাবে ধুঁকছে।
সরেজমিনে বনবিটে দেখা গেছে, বানর অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে পাঁচ/ছয়টি খুঁটিতে কিছুটা পরিবর্তন করে দুই তারের মধ্যবর্তী স্থানে বেশি জায়গা রেখে পুনরায় বিদ্যুত্ সংযোগ দিয়েছে পল্লী বিদ্যুত্ জোনাল অফিস। এতেও বানরের বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি থেকে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বন কর্মকর্তা। সন্তোষপুরের ফলচাষি আয়ুব আলী জানান, বিদ্যুতের খুঁটি বেয়ে উঠে তারে ঝুলে খেলার সময় বানরগুলো বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হচ্ছে। বানর সংবদ্ধ প্রাণী হওয়ায় এক বানর আহত হলে সব বানর ওখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে একের পর এক বিদ্যুতায়িত হয়। সংযোগ দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে ১০/১২টি বানর আহত হয়েছে। সন্তোষপুর বনবিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, কলার ভেতর অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে আহত বানরগুলোকে। তবে বানরগুলো কলা খেয়ে ভেতরের ট্যাবলেটটি ফেলে দিচ্ছে। ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম অনিতা বর্মন বলেন, বানর বিদ্যুত্তায়িত হয়ে আহত হওয়ার খবরে ওপরের এসটি লাইন বন্ধ করে দেওয়াসহ নিচের দুই তারের দূরত্ব আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।
পল্লী বিদ্যুত্ বোর্ড ও বনবিভাগকে উকিল নোটিশ
এদিকে বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ এবং আহত প্রাণীদের সুচিকিত্সার দাবি জানিয়ে বুধবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ বনবিভাগকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুতের তার অন্যত্র অপসারণ করতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও আহত বানরদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বনবিভাগকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।