আগের দিন ঢাকায় এসে গতকাল সকালে ১০টায় কমলাপুর স্টেডিয়ামের টার্ফে জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলনে ঝাঁপালেন ইংলিশ কোচ জেমি ডে। টানা দুই ঘণ্টা অনুশীলন করিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলেন কোচ। ১৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ এবং ফিলিস্তিন মুখোমুখি হবে। ফিলিস্তিন এই টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল। গত আসরে সেমিফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হয়। বাংলাদেশ হেরে বিদায় নেয়। সেই কথা জানা আছে কোচ জেমির। বাস্তবতা মেনে নিয়েই জেমি ডে বললেন, ‘ফিলিস্তিনের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ হবে। আমরা এই ম্যাচটাকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। এই ম্যাচে খেলোয়াড়দের কঠিন পরীক্ষা হবে। আমরা যদি ফিলিস্তিনকে হারাতে পারি সেটা দারুণ হবে। আমরা সেমিফাইনালে এগিয়ে যাবো। আর যদি না পারি তাহলে শ্রীলঙ্কাকে আমাদের হারিয়ে উঠতে হবে।’
জেমি ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন ছুটি কাটাতে। নতুন বছরের উত্সব কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা জেমি এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবলের প্রতিপক্ষ নিয়েও কাজ করতে শুরু করেছেন। আফ্রিকান ফুটবলের দেশও এই টুর্নামেন্টে খেলছে এবার। কেমন হবে আফ্রিকান দল? জেমি রাকঢাক না করে বললেন, ‘আফ্রিকান দল খুব শক্তিশালী, লড়াইটাও কঠিন হবে। তবে এটাও বলা যায় আফ্রিকানদের বিপক্ষেও আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা সেমিফাইনালে আফ্রিকান দলকেই মোকাবিলা করব।’
ফুটবলাররা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। টুর্নামেন্ট খেলতে নেমে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে কিনা তা নিয়ে জেমি ডে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। অবসাদগ্রস্ত হওয়ার যে বিষয়টি রয়েছে তা একটা চিন্তা হলেও বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা বেশি পরিশ্রম করেছে। অন্যরা একআধটু বিশ্রামও পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে ফিলিস্তিন ম্যাচের আগেই সবাই প্রস্তুত হয়ে যাবে।’
কমলাপুর স্টেডিয়ামের হাফ মাঠে ফুটবলারদের নিয়ে আক্রমণ পালটা আক্রমণের কৌশল দেখালেন কোচ। স্কোরিং নিয়ে একটা বাড়তি চিন্তা কাজ করছে কোচের মাথায়। স্ট্রাইকাররা কোচের চাওয়া পূরণ করতে পারছেন না। কোচ তাই বললেন, ‘আমাদের একটা সুন্দর রক্ষণভাগ রয়েছে। তবে স্কোরিংটা একটা চিন্তা। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি কীভাবে ছেলেরা সঠিক জায়গা থেকে গোল করতে পারেন। আমরা বুঝি এই সমস্যাটা এক দিনেই সেরে উঠবে না। আমরা চেষ্টা করছি। হাতে আরো চার পাঁচটা দিন সময় আছে।’ শুধু তাই নয় কালকের অনুশীলনে জেমি প্রতিপক্ষের ঘর ভাঙার কৌশলটাও রপ্ত করার কাজ করলেন। খেলোয়াড়দেরকে একটা বার্তা দিলেন যদি সেমিফাইনাল ফাইনালে যেতে হয় তাহলে গোল করতে হবে। গোলের কোনো বিকল্প নেই।
তবে গত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতায় জেমি একটা বিষয় তুলে আনলেন খেলোয়াড়দের ওপর প্রত্যাশার চাপটা বেশি থাকে। ফুটবল অনেক কঠিন একটা বিষয়। সহজ কোনো সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা গ্রুপ পর্বের খেলা উতরে যেতে চাই। তারপর সেমিফাইনাল। কথার শেষ না হতেই জুনিয়র ফুটবলাররা কোচ জেমিকে ঘিরে ধরে সেলফি তুললেন। কোচ অনেকটা সময় ধরে জুনিয়র ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তুললেন। কারো অনুরোধ ফেলে দেননি। একটা সময় ভিড় থেকে এককরম জোর করেই কোচকে গাড়িতে তুলে দেন বাফুফের প্রতিনিধিরা। ততক্ষণে জুনিয়র খেলোয়াড়রাও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সেলফি তুলতে ঘিরে ধরলেন তপু বর্মন, মামুনুল ইসলাম, আশরাফুল রানা, সাদ, রায়হানদের।