তেহরানের কাছে গত বুধবার ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের বিমানটি ভুলবশত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে পশ্চিমা নেতারা দাবি করেছেন। তথ্য-প্রমাণ এ রকমটাই নির্দেশ করছে বলে তারা মনে করছেন। তবে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান।
ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর আসে। সেই ঘটনায় ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো ধারণা করছে, যাত্রীবাহী বিমানটিকে ইরান হয়তো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেবে ভুল করতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে সিবিএস টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বলছে, সেই সময় স্যাটেলাইটে দুইটি মিসাইলের সংকেত পাওয়া গেছে। এরপরই বিস্ফোরণের আরেকটি সংকেত পাওয়া যায়। খবর বিবিসি বাংলার।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তিনি বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সূত্র থেকে যে তথ্য পেয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে, যাত্রীবাহী বিমানটি মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিষয়টি অনিচ্ছাকৃতভাবে হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রুডো বলেন, কানাডার মানুষের মনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং তাদের উত্তর জানা দরকার। উল্লেখ্য, ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের সেই বিমানটিতে কানাডার ৬৩ নাগরিক ছিল, যাদের ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ হয়ে টরন্টো যাওয়ার কথা ছিল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। জনসন বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে কানাডার সঙ্গে ব্রিটেন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। কানাডা সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, ইরান ভ্রমণ না করার জন্য ব্রিটিশ নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার প্রধান আলী আবেদজাদেহ বলেন, বিমানটি যখন বিমানবন্দর এলাকা ছেড়ে যাচ্ছিল, তখন সেটি পশ্চিমমুখী ছিল। একটি সমস্যার কারণে সেটি ডান দিকে মোড় নিয়ে বিমানবন্দরের দিকে পুনরায় ফিরে আসছিল তখন সেটি বিধ্বস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। এ ধরনের গুজব অযৌক্তিক।’
ইরান প্রাথমিকভাবে বলেছিল, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ব্ল্যাক-বক্স যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা বোয়িংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। পরে অবশ্য ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্তে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বোয়িংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ইরান সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিমান বিধ্বস্তের জন্য ইরানকে দায়ী করা একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’।