কাশ্মীরে ইন্টারনেট সেবাসহ সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক সপ্তাহের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করতে বলেছে

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে এসব নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকারকে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে। রায়ে বিচারক এনভি রামানা বলেছেন, ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই কেবল ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধের কথা বিবেচনা করা উচিত। করলেও তা হওয়া উচিত সাময়িক সময়ের জন্য।’ রায়ে কাশ্মীরে আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধও এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন ও কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবি আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেছেন। তিন সদস্যের এ বেঞ্চে আরো ছিলেন বিচারক আর সুভাষ রেড্ডি ও বি আর গাভাই। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও বিবিসির।

কাশ্মীরে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এর আগে ভারতের কোনো অঞ্চলে এত দীর্ঘ সময় ধরে এ সেবা বন্ধ রাখা হয়নি।

গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়ার আগে আগে উপত্যকাটির ইন্টারনেট, ফোন ও মোবাইলসেবা বন্ধ করে দিয়েছিল। অক্টোবরে ফোন ও মোবাইলসেবা চালু হলেও ইন্টারনেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল আছে। কাশ্মীরে এর আগে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্তও ১৩৩ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। পরের বছর ১৮ জুন থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম বঙ্গে ৯৯ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল।

গত ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। জম্মু-কাশ্মীর থেকে লাদাখকে আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয় এবং জম্মু-কাশ্মীরকেও একটি ভিন্ন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়।