কৃষি

বেগুনগাছের জৈবিক ব্যবস্থাপনা

সমীরণ বিশ্বাস

ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা বেগুনের একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর পোকা। এটি কম বয়সি ডগাকে আক্রমণ করে থাকে। আক্রান্ত ডগা তাজাভাব হারাতে থাকে। আক্রান্ত ডগার আকার নষ্ট হয়ে যায়, এমনকি আক্রান্ত বেগুন রান্না করলে এর স্বাদ হয় তিতা। মারাত্মক আক্রমণের ফলে পুরো গাছটিই মরে যেতে পারে। বেগুনগাছ লাগানোর পর থেকে বেগুন তোলা পর্যন্ত ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা গাছকে আক্রমণ করে থাকে। ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার বিভিন্ন স্থানীয় নাম রয়েছে। যেমন—আলমারা, ডগাভাঙা এবং ফল ছিদ্রকারী পোকা।

তার আগে আসুন প্রথমে আমরা দেখি কীভাবে এই পোকা জীবন ধারণ করে। পূর্ণবয়স্ক পোকা একটি মথ। এই মথগুলো শেষ রাতে ওড়াউড়ি করে, তাই এদের সহজে দেখতে পারবেন না। মথ কম বয়সি ডগার ওপরে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ডগায় ঘুরে বেড়ায়। কীড়া ডগা ও ফলের ভেতরে ছিদ্র করে ঢুকে খাবার খায়। এ কারণেই ডগার তাজাভাব হারিয়ে যায়। কীড়া বড়ো হয়ে ডগা ও ফল ছিদ্র করে বের হয়ে আসে। এরপর এরা মাটিতে চলে যায় এবং শুকনো, ঝরা পাতার সঙ্গে কোকুন তৈরি করে। এই কোকুনের ভেতর থেকে পূর্ণাঙ্গ মথ বের হয়ে আসে। ডিম দেওয়ার জন্য মেয়ে মথ পুরুষ মথের সঙ্গে মিলিত হয়। একটি মথ সারা জীবনে ২৫০টি পর্যন্ত ডিম দেয়।

আপনাকে প্রায়ই খেত পরিদর্শন করতে হবে, কারণ এটি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। গাছের নিচের দিকের অপেক্ষাকৃত পুরোনো পাতাগুলো সরিয়ে ফেলুন। মাটি থেকে ঝরা পাতাগুলো সরিয়ে ফেলুন। ওগুলো পুড়িয়ে ফেলুন, যাতে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা কোকুন তৈরি করতে না পারে।

কোনো আক্রান্ত গাছ আছে কি না, তা দেখার জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। আক্রান্ত গাছের ডগা সজীবতা হারাতে শুরু করে। সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করুন, কোনো ডগা শুকিয়ে যাচ্ছে কি না। তাত্ক্ষণিকভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে আক্রান্ত ডগা, ফুল বা ফল কেটে ফেলুন। সেগুলো সরিয়ে ফেলুন এবং মাটির নিচে পুঁতে ফেলুন।

খেতের চারপাশে জালের বেড়া দিয়ে আপনি খেতে মথের প্রবেশ ঠেকাতে পারেন। অর্ধ সেন্টিমিটার ছিদ্রযুক্ত এবং ৩ মিটার উঁচু জাল ব্যবহার করুন। মথকে দূরে রাখার জন্য জালটির ছিদ্র ছোটো হতে হবে। মথ ৩ মিটারের ওপরে উড়তে পারে না।

সূর্য ওঠার আগে খুব সকালে মথগুলো বেগুনগাছের কচি ডগায় উড়ে-উড়ে ডিম পাড়ে। কৃষক খুব সকালে উড়ন্ত মথগুলো অবলোকন করেন এবং ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। পরবর্তীকালে মথগুলো আর ডিম দিতে পারে না। যেহেতু কোনো একক পদ্ধতিই যথেষ্ট নয়, তাই বিভিন্ন পদ্ধতি মিলিয়ে নিয়ে কাজ করা ভালো।

ফাঁদের নিচের দিকে মথেরা ডিটারজেন্ট পানিতে ধরা পড়ে। ১০ থেকে ১২ মিটার দূরে-দূরে ফেরোমন ফাঁদ পাতুন। প্রতিদিন ফেরোমন ফাঁদ পরখ করুন। যখনই দরকার হয়, তখনই ডিটারজেন্ট পানি রিফিল ও পরিবর্তন করুন। ৪০ দিন পর পর ফেরোমন টোপ বদলান।

n লেখক :কো-অর্ডিনেটর, কৃষি ও বীজ কর্মসূচি, সিসিডিবি, ঢাকা