মো. সোয়েব মেজবাহউদ্দিন
ঢাকা শহরের পরিধি বাড়লেও আনুপাতিক হারে সড়কের পরিধি বাড়েনি। সকল দাপ্তরিক কাজ ঢাকায় এসে করতে হয়। তাই এখানে প্রতিদিন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোকজন ঢাকায় আসছে এবং এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রাস্তায় প্রতিদিন যেহারে যানবাহন চলছে সেহারে গাড়ি পার্কিংব্যবস্থা না থাকার প্রাইভেট কারগুলো রাস্তার ওপরেই রাখা হচ্ছে—এতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফুটপাতের ওপর অবৈধ মার্কেটও যানজটের অন্যতম একটি কারণ। কিছু পদক্ষেপ নিলে ঢাকা শহরের অধিকাংশ ক্ষেত্রই যানজট মুক্ত হবে বলে আশা করা যায়।
যেমন দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর অবকাঠামো বিস্তার, খ্যাতনামা স্কুল-কলেজসমূহের শাখা, হাসপাতাল ও রোগীর চিকিত্সার মানোন্নয়ন, বিচার বিভাগীয় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের শাখা, প্রশাসনিক, ব্যাংক ও বীমা শাখাসমূহের ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভাগীয় শহরের বাইরে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার অনুমতিপত্র, ত্বরিত কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্বাহী সিদ্ধান্তের মিনি সচিবালয়, ঢাকার বাইরে গার্মেন্টসশিল্প, ডাবলডেকার, প্রতিটি রাস্তায় ডিভাইডার, বিভাগীয় শহরগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অসময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, শপিং মল অথবা বড়ো বড়ো মার্কেটের নিজস্ব গাড়ি পার্কিং।
এতে করে বিভাগীয় শহর ছেড়ে যখন-তখন মানুষ আসা বন্ধ হলে ঢাকা শহরে মানুষের চাপ কমবে এবং চলাচল যানজটমুক্ত হবে। প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এক থেকে দেড় লাখ ছাত্রছাত্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ছুটে আসে ঢাকা শহরে। ঢাকা শহরের নামিদামি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বিভাগীয় শহরে থাকলে, ঢাকা শহরে তারা আসত না। সেরকম হাসপাতালের শাখা প্রতিষ্ঠা করাও অতি আবশ্যক। বিভাগীয় বা জেলা শহরগুলোর হাসপাতালগুলোতে উন্নত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় রোগীরা চিকিত্সাসেবার জন্য ছুটে আসেন ঢাকা শহরে। বিচারাধীন মামলা-মোকদ্দমাগুলো নিষ্পত্তির উচ্চ আদালত রাজধানী ঢাকায়। মামলা-মোকদ্দমা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে উচ্চ আদালতসমূহের শাখা গড়ে উঠলে সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষের ঢাকা শহরে আসার প্রয়োজন পড়বে না। দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ফাইল পাস করানোর জন্য জেলা, উপজেলা এমনকি বিভাগীয় শহর থেকেও সাধারণত কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকও ছুটে আসেন ঢাকা শহরে। এভাবে দিনের পর দিন ফাইলের পেছনে পেছনে ঘুরেও কার্যসম্পাদন করা হয়। বিভাগীয় শহরগুলোতে মিনি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে সাধারণ মানুষ কাজে সুবিধা পাবে এবং রাজধানী ঢাকা শহর যানজটমুক্ত হবে। গার্মেন্টসশিল্প নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার কারণে গড়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা শহরে। এতে ঢাকা শহরে শ্রমিকের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেইসঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঢাকার বাইরে গার্মেন্টসশিল্প কারখানা গড়ে উঠলে অথবা স্থানান্তরিত হলে অধিকাংশে ঢাকা শহর যানজটমুক্ত হবে। মিনি বাসের সংখ্যা কমিয়ে অধিক পরিমাণে ডাবলডেকার রাস্তায় নামানো হলে যানজট কমাতে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিশেষে, রাজধানী ঢাকা শহরকে যানজটমুক্ত করার জন্য ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আগামী পাঁচ বছরে ঢাকা শহর চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এমনিতেই বিশ্বে অপরিচ্ছন্ন শহরের মধ্যে ঢাকা অন্যতম। কারণ এখানে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র গড়ে তোলা হয়েছে শিল্প কারখানা। এসব অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন।
ঢাকা