আধুনিক ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড ৫৭

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কামরাঙ্গীরচর থানাধীন ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু অলিগলিতে ঠাঁসা। রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় ময়লার স্তূপ। মশা-মাছিসহ নানা ধরনের কীটপতঙ্গ এলাকাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। এখানকার অপরিকল্পিত ও অপ্রশস্ত সড়কে তেমন একটা পরিকল্পিত স্যুয়ারেজের ব্যবস্থা নেই। ব্যাটারিচালিত অবৈধ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বেশি থাকার কারণে সড়কে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা লেগেই থাকে। কামরাঙ্গীরচর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বের নগর ভবনে আসতেই লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সরু গলিতে আবাসিক বাড়ির নিচে প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ছোটো ও মাঝারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। হালকা বৃষ্টিতে সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

এই ওয়ার্ডে কোনো কমিউনিটি সেন্টার, মাতৃসদন, ব্যায়ামাগার, খেলার মাঠ ও শিশুপার্ক না থাকায় সমস্যায় রয়েছে বাসিন্দারা। কমিউনিটি সেন্টার না থাকায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে। ওয়ার্ডটিতে মাদকের আনাগোনা খুবই বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ ওয়ার্ডটিকে আধুনিক ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়তে চান কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ওয়ার্ডে খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে চান তারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এটি অঞ্চল-৩ নামেটি প্রশাসনিক ওয়ার্ড। এটি সাবেক সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা। কামরাঙ্গীরচর থানায় অবস্থিত এ ওয়ার্ডটি ঢাকা-২ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত। কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ, মাদরাসাপাড়া, মমিনবাগ, আহসানবাগ, পাকাপুল, ইসলামনগর, দুখুরিয়া, মাদবরবাজার, নুরবাগ, কুমিল্লাপাড়া, রহমতবাগ, নিজামবাগ, বাগচানখাঁ পশ্চিমাংশ, বাগচান খাঁ পূর্বাংশ, ইব্রাহীমনগর, বালুরমাঠ, করিমাবাদ, হাসলাই, মুসলিমবাগ এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হচ্ছেন—বর্তমান কাউন্সিলর মো. সাইদুল ইসলাম মাদবর এবং বিএনপি থেকে এ পদে প্রার্থী ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. পারভেজ মিয়া।

বর্তমান কাউন্সিলর মো. সাইদুল মাদবর বলেন, আমি গতবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। রাস্তা সংস্কার কাজ, স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সড়কবাতি স্থাপনের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। কমিউনিটি সেন্টার ও খেলার মাঠ নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া মাদক নির্মূলে কাজ করেছি। এবার নির্বাচিত হলে এলাকার যানজট নিরসনে ছাতামসজিদ ও মুসলিমবাগের শেষ মাথায় একটি ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা করব। এছাড়াও গতবার আমি কামরাঙ্গীরচর থেকে নগর ভবন পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। এবার সেই কাজটা শেষ করতে চাই।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া মো. পারভেজ মিয়া বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা বুড়িগঙ্গার বর্জ্য পদার্থ, মাদক ও যানজট। নির্বাচিত হলে স্থানীয় সচেতন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করে মাদক নির্মূলে কাজ করব। শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, এলাকাবাসীর সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করব। এছাড়া নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধানে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব।