পানিশূন্য বিভিন্ন স্থান নৌচলাচল বন্ধ

নেত্রকোনার মগড়া নদী

নদীর বুকেই বোরো আবাদ

শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মগড়া নদীর বিভিন্ন স্থান পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে নৌচলাচল যেমন বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি বোরো জমিতে সেচের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। তবে মগড়া নদীতে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা এবং নেত্রকোনার পূর্বধলার জারিয়া এলাকা দিয়ে নেত্রকোনা শহর দিয়ে প্রবাহিত মগড়া নদীটির বর্তমান চেহারা একেবারে নাজুক। নদীর কোনো কোনো স্থানে পানি নেই, আবার যেখানে সামান্য পানি আছে সেটা দেখতে স্থানীয় ভাষায় ‘পাগাড়’ বা ‘ডোবার’ মতো। এ সমস্ত স্থানে এখন বোরো  আবাদ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, জরুরিভাবে নদী খনন করা না হলে ১৫-২০ বছরের মধ্যে এই নদী বিলীন হয়ে যাবে। তখন মগড়া নদীর অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এই মগড়া নদীর উত্সমুখ ভারাট হয়ে যাওয়াতে নদীর এই অবস্থা হয়েছে। গত পাঁচ-সাত বছর যাবত্ মগড়া নদী খননের জন্য জেলাবাসী বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, সমাবেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

সম্প্রতি মগড়া নদীর তীর উদ্ধার, অবৈধ দখল মুক্ত করা এবং এ লক্ষ্যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও খনন কাজ শুরু হয়নি।  তবে সুধিমহলের অভিমত হচ্ছে, নদীর প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য আগে প্রয়োজন নদী খনন এবং উত্সমুখ চালু করা যাতে করে উঁচু এলাকা থেকে নদীতে পানি সহজেই প্রবাহিত হতে পারে।

নেত্রকোনার পরিবেশবিদ অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে নদী দখলদারিদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে, এটি শুভ লক্ষণ। তবে খনন কাজও করা উচিত, তাহলে মরা মগড়া সচল হবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘নদী খননের বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের। তারা কংস নদী খনন কাজ করছে।’ নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, ‘শুধু মগড়া নদী নয়, জেলার অন্যান্য নদীও খননের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কংস নদী খনন কাজ শুরু হয়েছে। মগড়া নদী খননের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।