মোদির সঙ্গে বৈঠকে এনআরসি প্রত্যাহার দাবি মমতার

দুই দিনের সফরে শনিবার কলকাতায় এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কলকাতার রাজভবনে এ বৈঠক হয়। সেখানেই এনআরসি, সিএএ, এনপিআর নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রত্যাহারের দাবি জানান মমতা।

আধা ঘণ্টার বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, সৌজন্য হিসেবেই দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেখানে ওনাকে পশ্চিমবঙ্গের দাবি-দাওয়া নিয়ে বলেছে। পশ্চিমবঙ্গের দিল্লির কাছে ৩৫ হাজার টাকা পাওনা আছে। তা দেওয়ার কথা বলেছি। এর পরই মমতা বলেন, একই সঙ্গে ওনাকে বলেছি, দেখুন আপনি এখানে এসেছেন, আমার বলা উচিত কিনা জানি না। তবে এনআরসি, সিএএ, এনপিআর করা যাবে না। এটা প্রত্যাহার করতে হবে। মমতা বলেন, জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এখানে অন্য অনুষ্ঠানে এসেছি। এ নিয়ে দরকারে পরে দিল্লিতে কথা বলব। এরপর রাজভবন থেকে বের হয়ে মমতা ধর্মতলায় এনআরসি, সিএএ বিরোধী ধর্ণা মঞ্চে গিয়ে বসেন।

সেখানে মমতা বলেন, ‘এই বাংলা থেকেই শুরু হয়েছিল এনআরসি বিরোধিতা। আমি শেষ দিন পর্যন্ত এর বিরোধিতাই করে যাব। আমি সব পড়ুয়াদের আমার সমর্থন জানাচ্ছি। সবাই একসঙ্গে লড়ুন। কেন্দ্রীয় সরকার যে নোটিফিকেশন জারি করেছে, তা কাগজে কলমেই থাকবে, আমরা লাগু করব না, এই আমার বিশ্বাস।’

এদিকে, নরেন্দ্র মোদির কলকাতা সফর ঘিরে শনিবার দিনভর উত্তাল ছিল কলকাতা। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ মিছিল হয়। ছাত্রছাত্রীরা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও সেখানে যোগ দেন। ভগত্ সিংয়ের ছবি আঁকা পতাকা সামনে রেখে, কালো বেলুন উড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। চোখে কাপড় বেঁধেও অনেকে প্রতিবাদ মিছিল করেন। যশোর রোডে ‘নো ডিটেনশন ক্যাম্প’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ হয়।

মমতার সঙ্গে বৈঠকের পর কলকাতার কারেন্সি বিল্ডিংয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে বক্তৃতা শুরু করেন ‘আমার সোনার বাংলা’ বলে। এরপর হাওড়া ব্রিজে একটি লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের উদ্বোধন করেন তিনি। ছিলেন মমতা ব্যানার্জিও। রাতে বেলুড় মঠে যান নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই রাত্রিবাস করেন।

আজ রবিবার স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিন। বেলুড় মঠে রবিবার সকালে ধ্যানে বসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।