ভুয়া সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে দুটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাত্কারী এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন: এইচ এম এ বারিক ওরফে বাদল ওরফে বাদল হাওলাদার ওরফে মোস্তাক আহমেদ এবং তার স্ত্রী মরশিদা আফরীন।
সিআইডির দাবি, একটি চক্র তৈরি করে তারা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ভুয়া সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে টাকা আত্মসাত্ করত। প্রতারণার টাকায় এ দম্পতি রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্নস্থানে বাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাট কিনেছেন। বর্তমানে তাদের রয়েছে শত শত কোটি টাকার সম্পদ। ১৬ বছর আগে দায়েরকৃত একটি মামলার পর এ দম্পতি পালিয়ে ছিল। অবশেষে গত শুক্রবার খুলনার খালিশপুর এলাকা থেকে সিআইডি তাদের গ্রেফতার করে। গতকাল শনিবার সিআইডির সদর দপ্তরে সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
সিআইডি জানায়, এ চক্রটির মূলহোতা একজন শিল্পপতি। তার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবসা ছিল। ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাত্ করে তিনি শিল্পপতি হয়েছেন। তার পরিচয় পেয়েছে সিআইডি। তবে তদন্তের স্বার্থে ঐ শিল্পপতির নাম গোপন রেখেছে সিআইডি। শিগিগরই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সিআইডি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন আরো বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এই প্রতারক চক্র ২১টি ভুয়া সঞ্চয়পত্র তৈরি করে এর বিপরীতে এবি ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে আট কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকা আত্মসাত্ করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার তত্কালীন ম্যানেজার জড়িত ছিল। এই দম্পতির ব্যাংক হিসাবে জালিয়াতি করে উপার্জিত দুই কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছে সিআইডি। তাদের নামে গুলশান-২ এ প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি ৯ তলা বাড়ি, উত্তরায় শত কোটি টাকার মূল্যের ৬ তলা বাড়ি, উত্তরখান এলাকায় একটি দুই তলা বাড়ির সন্ধান মিলেছে। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, ২০০৪ সালে এবি ব্যাংক থেকে এভাবে জালিয়াতির অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। তবে তখন থেকে পালিয়ে ছিলেন মোস্তাক হাওলাদার। তখন ঐ মামলায় তার সাজাও হয়েছে। গত ১৬ বছরে তিনি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে পালিয়ে ছিলেন। ২০১১ সালে গোপনে দেশে এসে আবার জালিয়াতি শুরু করেন। ১৬ বছর ধরে পলাতক মোস্তাককে খুঁজছিল পুলিশ।
তিনি আরো জানান, ঐ মামলায় এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের তত্কালীন ম্যানেজার আসিরুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে তিনমাস কারাভোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন এবং পরে হূদরোগে মারা যান। তবে এর সঙ্গে ব্যাংকের আর কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে সিআইডি। ব্যাংক থেকে ভুয়া সঞ্চয়পত্র দিয়ে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় দুদক ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানায় সাতটি মামলা দায়ের করে। মামলাগুলো সিআইডি তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।