যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের শীর্ষ জেনারেলকে যখন হত্যা করা হয় তখন চারটি মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করছিল তেহরান। যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে কোন ধরনের হুমকি শুক্রবারের ড্রোন হামলার পেছনে কাজ করেছে; তখন তিনি বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি যে, আমার বিশ্বাস এটা হয়তো চারটি দূতাবাস ছিল।’ তবে ডেমোক্র্যাটরা বলেছে, এর কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। খবর বিবিসির
ট্রাম্প যা বলেছেন
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে পরিবেশবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি হামলার অনুমোদন দিয়েছেন, কারণ ইরান আমাদের দূতাবাসগুলো উড়িয়ে দিতে চাইছিল। তিনি আরো বলেন, এটা নিশ্চিত যে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীরা যে হামলা চালিয়েছিল সোলেইমানির মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ইরানই তার আয়োজন করেছিল। আর আপনারা জানেন যে, কে এটা আয়োজন করেছিল। সেই ব্যক্তি এখন আর কোথাও নেই। ঠিক আছে? আর তার পরিকল্পনায় আরো কয়েকটি নির্দিষ্ট দূতাবাসের কথা মাথায় ছিল। ওহাইয়োতে এক সভায়ও ট্রাম্প একই অভিযোগ করেন। তার এই অভিযোগ সমর্থন করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘আমাদের কাছে আসন্ন হামলার হুমকির সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল এবং এই হুমকির মধ্যে মার্কিন দূতাবাসগুলোও ছিল।’ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় তিনি এসব কথা বলেন। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছে, হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে আগে থেকে আইনপ্রণেতাদের যথাযথ প্রজ্ঞাপন দেয়নি। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প তাদের উপহাস করে বলেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা মিডিয়ার কাছে ফাঁস করে দিত।
কী প্রমাণ রয়েছে?
ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকে ইরানের পরিকল্পনার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেছেন। যাই হোক, বাগদাদ বিমানবন্দরে সোলেইমানির গাড়িবহরে মার্কিন হামলার আগেই সেই বিক্ষোভ শেষ হয়ে গিয়েছিল। হাউজের সশস্ত্র সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্মিথ যিনি একজন ডেমোক্র্যাট, তিনি বুধবার হোয়াইট হাউজে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ভবিষ্যতে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের হামলার পরিকল্পনার কোনো প্রমাণ নেই। ‘আমি সব পর্যায়ের সবার সঙ্গে কথা বলেছি, এমনকি আমি হোয়াইট হাউজেরও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা কেউই এমন কিছু বলেনি’, পলিটিকো’কে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে যা বলা হয়েছে তাতে কোনো নির্দিষ্ট টার্গেটের কথা বলা হয়নি, আমাদের কাছে যে গোয়েন্দা তথ্য ছিল তাতেও কোনো নির্দিষ্ট টার্গেটের কথা উল্লেখ করা হয়নি। প্রেসিডেন্টের কাছে যদি নির্দিষ্ট টার্গেটের প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি আমাদের জানানো হয়নি।’ ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না। সমস্যাটি হচ্ছে, আমি অবশ্য এতটা কঠিনভাবে বলতে চাইনি, তবে আমাদের একজন প্রেসিডেন্ট আছেন যিনি অস্বাভাবিকভাবে মিথ্যা বলেন।’ সুতরাং এটা কি সত্য হতে পারে? হয়তো পারে। কিন্তু যদি বলা হয়, এটা কি সত্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে? হয়তো না, তিনি বলেন।
সোলেইমানির মৃত্যু কেন হঠাত্ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি হয়ে উঠল, হোয়াইট হাউজের কাছ থেকে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা না পেয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই হতাশ হয়নি। উতাহের রিপাবলিক সিনেটর মাইক লি হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনের কড়া সমালোচনা করে একে ‘অপমানজনক’ এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহনযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনকে ‘ঘটনার পরের অবস্থা দ্বারা প্রভাবিত ও খোঁড়া’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউজ সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে এর কর্মকর্তারা ‘কারণ শনাক্ত করতে হিমশিম খেয়েছে’। বৃহস্পতিবার মার্কিন পার্লামেন্টর প্রতিনিধি পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
৬২ বছর বয়সি সোলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সব কর্মসূচির মূল হোতা ছিলেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সিরীয় সরকারের লড়াই এবং ইরাকে ইরানপন্থি আধা সামরিক বাহিনীর উত্থানেরও কারিগর ছিলেন তিনি। ট্রাম্প এবং পম্পেও দাবি করেছেন, হাজার হাজার মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন তিনি। শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি ইয়েমেনে বসবাসরত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি কমান্ডার এবং অর্থায়নকারী আব্দুল রেজা শাহলাইকেও টার্গেট করেছিল মার্কিন বাহিনী। তারা বেনামী এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলে, গোপন ঐ মিশনে মারা যাননি ঐ কমান্ডার। তবে ইয়েমেনে অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনো সরাসরি মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।