নীলেশ্বরীদের একটি কম্বল দরকার

উপজেলা সদর ইউনিয়নের গ্রাম ধামুর পাড়া। পাশে তিস্তা নদী। বাঁধের প্রায় একশ ফুট দূরে খাস জমির বাড়িতে বাস করেন আসামনী (৪৫)। স্বামী মারা গেছেন ৮ বছর আগে। দিনমজুরি ও ভিক্ষায় চলে তার জীবন ও জীবিকা। একে তীব্র শীত তার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস যোগ হয়ে নদী তীরবর্তী মানুষগুলো জবুথবু। হাতে কাগজ-কলম দেখেই চকচক করে উঠে আসমানীর চোখ। তীব্র শীতে যতোটা কষ্ট করছেন তার চেয়েও অনেক সরলভাবে বললেন- ‘মোর নামটা নেখো বাহে, মোক একনা কম্বল দেন।’ এ সময় আর্জি জানিয়ে রাখলেন বাঁধের ধারে আশ্রিত নিলেশ্বরী, বুলবুলি, দুলালী, বাচ্চানি, বিসাদী, খড়কু ,মিনারাসহ অনেকেই। 

দফায় দফায় রংপুরে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। তিস্তার চরাঞ্চল ও তিস্তা কূলবর্তী গ্রামসহ উপজেলা সর্বত্র নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা চরমে। কাহিল জনজীবন। সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতি। সড়কে হেড জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোকে চলতে দেখা যাচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এই সুযোগে দামও বেশি হাঁকা হচ্ছে। শীতের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছেনা গবাদিপশু গুলোও।

আরও পড়ুন: শেরপুরে সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

মর্নেয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী আজাদ বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত শীতার্ত মানুষের অবস্থা করুন। এলাকায় ৫ হাজার কম্বল প্রয়োজন। উপজেলা থেকে ৪৬০ পিস কম্বল পেয়েছেন।

লক্ষ্মিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, সরকারিভাবে যা দেওয়া হয়েছে তা খুবই সামান্য। জরুরি ভিত্তিতে আরও কম্বল প্রয়োজন।

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু বলেন, অনেক চাহিদার বিপরীতে সরকারিভাবে মাত্র ৪৬০ পিস কম্বল পেয়েছি। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন পর্যন্ত  সরকারিভাবে ৯ ইউনিয়নে মাত্র ৪৬০ পিস করে কম্বল দিয়েছে। আরও কম্বল চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি