রাজশাহীর বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে স্ত্রীর লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়ার ৩ ঘণ্টা পর স্বামী লিটন আলী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকালে বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
লিটন আলীর বাড়ি উপজেলার হিজোলপল্লী গ্রামে। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, সকাল ১১টার দিকে একটি ভ্যান যোগে লিটন আলী (২৫) তার স্ত্রী ফালগুনীকে (১৮) স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে নিয়ে এসে জানান, তার স্ত্রী গলাই রশি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তার ফালগুনীকে মৃত ঘোষণা করলে লিটন এবং তার মা বেবিজান কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে ঘটনার ৩ ঘণ্টা পর লিটন নিজে তার এক আত্মীয়র বাড়ি গিয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তার অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে দুপুর ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার গলায় পাইপ দিয়ে বিষ বের করেন।
লিটনের প্রতিবেশী জোসনা খাতুন ও খাইরুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ৮ মাস আগে ফরিদপুর এলাকার শালতা থানার ফারুক হোসেনের মেয়ে ফালগুনীকে বিয়ে করেন লিটন। তাদের উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক ভাল ছিল। কিন্তু হটাৎ কি হয়েছে সেটি আমাদের জানা নেই।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সিরিন সুলতানা জানান, ফালগুনীর গলাই আঘাতের চিহৃ ছিল। তার স্বামী পালিয়ে যাওয়ায় কারণে অনেকেই নানা রকম মন্তব্য করছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালে মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটা খুন না আত্মহত্যা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। লিটন সুস্থ্য হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ