ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে টাঙ্গানো হল জাতির পিতার প্রতিকৃতি

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : গণপূর্ত মন্ত্রী

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, গোটা জাতির জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় বাঙালি জাতির ইতিহাসে একজন মহামানবকে পাওয়া। সেই মহামানব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হাজার বছরের নয়, সর্বকালের বাঙালি জাতির ইতিহাসে যতটুকু খোঁজ পাওয়া যায়, তার মত মহামানবের জন্ম আর হয়নি। সে জন্য আমরা তাকে বলি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। কেউ কেউ ভুল করে বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তখন আমরা প্রশ্ন তুলি, তাহলে এক হাজার বছরের পূর্বে আরও কেউ ছিলো কিনা? এটাই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তিত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আইন ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতি টাঙ্গানোর পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় গণপূর্ত মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়াগায়ে বাগিয়ার খালের পাশে ছোট্ট একটি পরিবারে যার জন্ম হয়েছিল সেখানে তিনি ধীরে ধীরে খোকা মিয়া থেকে শেখ মুজিব, শেখ সাহেব, বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক, তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি এবং একটা পর্যায়ে তিনি বিশ্বের নির্যাতিত, নিষ্পেষিত মানুষের নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। বাঙালিত্ব যতদিন থাকবে, বাঙালির স্বকীয়তা যতদিন থাকবে, ততদিন বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু ভাস্বর হয়ে থাকবেন।

গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, একাত্তর সালে যারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি তারাই কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের দিন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলো। এই ব্যক্তিরাই কিন্তু একাত্তর ও পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলো। তারাই কিন্তু পাকিস্তানের অবয়বে বাংলাদেশকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলো। তারাই বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করা যাবে না বলে ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স এবং পরে তা আইন করেছিলো। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ ও দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে অদম্য ইচ্ছা ও সাহস দেখিয়েছেন, এটা বিশ্বের ইতিহাসে বিস্ময়। নিজ দলের নেতা-কর্মীদের দল থেকে বের করে দিয়ে দুদকের মুখোমুখি করা, উপমহাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দলের এ ধরণের রেকর্ড নেই, যেটা শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন।

গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন, রাষ্ট্র তাদেরকে দায়িত্ব পালনের সকল সুযোগ দেবে। কুমিল্লা, রংপুর ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সেখানে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি।

অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিনউদ্দিন, ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি ওয়াকিল আহমেদ হিরণ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।  

ইত্তেফাক/ইউবি