অপার সম্ভাবনার প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতাও প্রয়োজন

বর্তমানে আমরা বাস করিতেছি ডিজিটাল টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার যুগে। সেই আদিম ধোঁয়ার সংকেত হইতে শুরু করিয়া অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল যোগাযোগ প্রযুক্তির উত্থান এক রোমাঞ্চকর গল্প। ভাবিতে অবাক লাগে যে, মানুষ কতখানি পথ অতিক্রম করিয়া আসিয়াছে! তবে বর্তমানের ন্যায় পূর্বের কোনো পরিবর্তনই এতটা দ্রুতগতির ছিল না। এবং একই সঙ্গে চরিত্রগতভাবে বর্তমানকালের এই প্রযুক্তির বিপ্লব বৈশ্বিক। সমগ্র বিশ্ব এখন থাকে মানুষের হাতের মুঠায়। আর সারা বিশ্ব হইতে আমরাও খুব বেশি পিছাইয়া নাই। ডিজিটাল যুগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে গত এক দশকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়িয়াছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫ লক্ষ। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৫ লক্ষ, এই সংখ্যা আরো বাড়িতেছে। বিপুল এই সংখ্যা হইতেই ধারণা করা যায় যে, প্রযুক্তি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের নিকটেই পৌঁছাইয়া গিয়াছে। শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, এমনকি অশিক্ষিত শ্রেণির মানুষও এখন ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচরণ করিতেছে। ফলাফলের কথা চিন্তা করিলে ইহার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই রহিয়াছে। যদিও ইতিবাচক দিকই বেশি হইবে, তাহার পরও কিছু নেতিবাচক দিক উল্লেখযোগ্য। প্রযুক্তি ব্যবহারে সাধারণ মানুষের অসচেতনতার সুযোগ লইয়া কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রতারণার ফাঁদ বিস্তার করিয়াছে; অভিনব পদ্ধতিতে প্রতারণা করা হইতেছে মানুষকে। আবার মানুষের অসচেতনতায় ছড়াইয়া পড়িতেছে গুজব, যাহা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করিতেছে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন হইবার প্রয়োজন রহিয়াছে। একটি ন্যূনতম বয়স পর্যন্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে কিছু সীমা বাঁধিয়া দেওয়াই উত্তম। 

আধুনিক টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির উত্থানের পর আমাদের পরিচিত দুনিয়ার অনেক কিছুই পালটাইয়া গিয়াছে। বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ এবং ৯৫ ভাগ অঞ্চল মোবাইল ফোনের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সেবার আওতায় আসিয়াছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে আইসিটি খাতের আয় ছিল ২ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার, যা আজ ৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হইয়াছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে আউটসোর্সিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রহিয়াছে বাংলাদেশ। অনলাইন আউটসোর্সিং হইতে লক্ষ লক্ষ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রবেশ করিতেছে। ঘুচিতেছে বেকারত্ব। সরকারও প্রযুক্তির সুবিধা নিয়া নানা নাগরিক সার্ভিস চালু করিয়াছে। ইতোমধ্যে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ ব্যবহারে জনগণের নিকট হইতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়াছে। এই পর্যন্ত ৫ লক্ষাধিক মানুষ ইমার্জেন্সি সহায়তা পাইয়াছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল হইতে। ইহা ছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে তৈরি করা হইয়াছে বিশেষ অ্যাপস। এমনকি কৃষকের নানা সুবিধা নিয়া নূতন ‘কৃষকের অ্যাপস’ নামে একটি অ্যাপস তৈরি করা হইয়াছে, যাহা সরকারের ধান-চাউল ও কৃষিপণ্য ক্রয়ে অনিয়ম ঠেকাইতে কাজ করিবে। সর্বোপরি প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকে খেয়াল রাখিয়া ইহার ইতিবাচক ব্যবহার, নিত্যনূতন উদ্ভাবন ও অন্বেষণে মনোযোগ প্রদান করিতে হইবে।