দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ

পাবনার ইছামতি নদী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পাবনার ইছামতি নদী দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে ঐ তালিকা প্রণয়ন করে আদালতে দাখিল করতে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পাবনার জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন।

এ ছাড়া ইছামতি নদী রক্ষায় রুল জারি করেছে আদালত। রুলে ঐ নদীকে কেন প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সি এস ম্যাপ অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণপূর্বক অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে কেন তাদের উচ্ছেদ এবং ক্ষতিকর স্থাপনা অপসারণ করে কেন নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি করা হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

পাবনা জেলার সদর, আটঘরিয়া, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইছামতি নদী। আজ দখল ও দূষণে জর্জরিত। পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ভাঁড়ারা নামক স্থানে এবং হেমায়েতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর নামক স্থানে দুটি স্লুইস গেট তৈরির পর থেকে এ নদীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা সদর উপজেলার শুধুমাত্র পৌরসভা এলাকার ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৮৫টি এবং সাঁথিয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নে মোট ৬৬টি অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ অবস্থায় নদীর দখল ও দূষণ বন্ধে হাইকোর্টে রিট করে বেলা। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন বেলার প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সাঈদ আহমেদ কবীর। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।