ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট

৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার কমিশন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ঐ চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বিচারিক আদালতে চাজশিট দাখিল করা হবে বলে দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের কাছ থেকে দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার ঘটনায় ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যলয়-১ এ মামলা করে দুদক। মামলার বাদি দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, খন্দকার এনামুল বাছির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কমিশনের দায়িত্ব থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনকালে অসত্ উদ্দেশ্যে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে অবৈধ সুযোগ প্রদানের হীন উদ্দেশ্যে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অপরাধলব্ধ                ৪০ লাখ টাকা উেকাচ বা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে উক্ত টাকার অবস্থান গোপন করেন।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজান সম্পর্কে বলা হয়, ‘তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশায় অর্থাত্ অনুসন্ধানের ফলাফল নিজের পক্ষে নেওয়ার উদ্দেশ্যে খন্দকার এনামুল বাছিরকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে অবৈধ পন্থায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেন।

প্রতিবেদনের আরো উল্লেখ করা হয় যে, প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য, অডিও রেকর্ডে উভয়ের কথোপকথন ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রমাণিত হয় যে, নিজে অভিযোগের দায় থেকে বাঁচার জন্য ডিআইজি মিজানুর অসত্ উদ্দেশ্যে উেকাচ/ঘুষ প্রদান করে খন্দকার এনামুল বাছিরকে প্রভাবিত করেন।

ঘুষ লেনদেনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিআইজি মিজান গত ১৫ জানুয়ারি একটি বাজারের ব্যাগে করে কিছু বইসহ ২৫ লাখ টাকা এনামুল বাছিরকে দেওয়ার জন্য রমনা পার্কে উভয় আলাপ-আলোচনা করেন। এরপর তারা রমনা পার্ক থেকে একত্রে বের হয়ে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় খন্দকার এনামুল বাছিরের কাছে ২৫ লাখ টাকা ব্যাগসহ হস্তান্তর করেন। এরপর ব্যাগটি নিয়ে এনামুল বাছির তার বাসায় চলে যান। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি একইভাবে মিজান একটি শপিং ব্যাগে ১৫ লাখ টাকা এনামুল বাছিরকে দেওয়ার জন্য রমনা পার্কে আসেন উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, ‘তারা রমনা পার্কে আলোচনা শেষ করে উভয়ে পার্ক থেকে একত্রে বের হয়ে শান্তিনগর এলাকায় মিজানুর ১৫ লাখ টাকাসহ ব্যাগটি এনামুল বাছিরের কাছে হস্তান্তর করলে বাছির ব্যাগটি নিয়ে চলে যান।

দুদক সূত্র আরো জানায়, তিন কোটি সাত লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদের অভিযোগে স্ত্রী, ভাই ও ভাগ্নেসহ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানসহ পরিবারের চার জনের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন মামলা করে দুদক।