ঢাকা উত্তর সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। রবিবার মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চিড়িয়াখানা সড়কে তাবিথের জনসংযোগের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েক জনকে আটক করে।
অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যায় গোপীবাগে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ এসেছে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হামলা করে একটি গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙে ফেলে বলে দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ডিএসসিসির বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। যত শক্তিই প্রদর্শন করা হোক না কেন, আমাদের আটকানো যাবে না। আমরা জয়ী হবো।’
তাবিথের প্রচার : উত্তর সিটির নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষ্যে রবিবার সকাল থেকে মিরপুরে শাহ আলীর (রহ) মাজারের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ধানের শীষে ভোট চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পৌনে ১১টার দিকে সেখানে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেন তাবিথ আউয়াল। পরে তিনি বলেন, মিরপুরে মাজার রোডে তার নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তার প্রচার লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে সরে যান।
দুপুরে শাহ আলী মাজার মসজিদে জোহরের নামাজ ও মাজার জিয়ারত শেষে আবার প্রচার শুরু করেন তাবিথ। তিনি উত্তর বিশিল, গুদারাঘাট, চিড়িয়াখানা রোড, ১ নম্বর মিরপুর ঈদগাঁ মাঠ, সনি সিনেমা হলের সামনে জনসংযোগ করেন। তবে চিড়িয়াখানা এলাকায় নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
গণসংযোগকালে তাবিথ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নাগরিক সমস্যার ১২টা জায়গা চিহ্নিত করেছি। দায়িত্ব পেলে এই ১২টা জায়গায় আমরা সমন্বয় ও গুরুত্বের ভিত্তিতে একযোগে কাজ শুরু করব। ডেঙ্গু, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও যানজটের মতো বাসাভাড়াও ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য একটি বড়ো সমস্যা। এই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারলে ঢাকার নাগরিক সমস্যার সমাধানে কাজ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, জনগণ আমাদের গণসংযোগকালে যেভাবে বাসাবাড়ি থেকে জানালা খুলে হাত নেড়ে আমাদের উত্সাহ দিচ্ছে তাতে আমরা আশাবাদী।
ইশরাকের গণসংযোগ ঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। যত শক্তিই প্রদর্শন করা হোক না কেন, আমাদের আটকানো যাবে না। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজ মোড়ে নির্বাচনী সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি ওয়ারী থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫ জনকে আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে দাবি করে বলেন, আমাদের নানাভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। মিছিল থেকে কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা আমারা শুনতে পেরেছি। আমি বলতে চাই, কোনো ধরনের বাধা আমরা মানবো না। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের আসবেই। এসময় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নয়াবাজারে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন ও দুপুরের বিরতি দেয়া হয়।
পরে আবার গণসংযোগ শুরু করে কলতাবাজার-মিউনিসিপাল মার্কেট, পানির ট্যাংকি, বাহাদুরশাহ পার্ক, বাংলাবাজার, শ্যামবাজার, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন ইশরাক। এছাড়া দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (জজ কোর্ট) সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি।