ঢাকা সিটি নির্বাচন

নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই উত্তেজনা

উত্সবমুখর পরিবেশেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছিল। গত শুক্রবার প্রচারণার শুরুতে সব হেভিওয়েট প্রার্থী শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেও ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। প্রচারণায় ছড়াচ্ছে উত্তেজনা, কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষও হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য বিএনপি সরকারি দলকে দায়ী করেছে। দলটি বলছে, এখন থেকেই সরকারি দলের এই সহিংস আচরণ খুবই দুঃখজনক। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপির জনসমর্থন নেই, জনগণের তাদের ওপর আস্থাও নেই। এ কারণে তারা শুধু এ নালিশ, সে নালিশ করে। তাদের এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নাই। 

গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে বাংলামোটরে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের অফিসের নিচে। এ হামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম আবু জাফরসহ পাঁচজন আহত হন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ আমিনুর রহমান আমিন। হামলার বিবরণ দিয়ে আমিন জানান, নিয়মিত প্রচার কাজ শেষ করে অফিস থেকে বের হয়েছিলেন। অফিসের নিচে নামতেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন রড ও হকিস্টিক দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় গোপিবাগে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হামলা করে একটি গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙে ফেলে। তৃতীয় হামলার ঘটনা ঘটে রবিবার সকালে মিরপুরে। সকাল ১১টায়  মিরপুর এক নম্বর মাজার রোড এলাকায় প্রচারণা চলাকালে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি জানান, প্রচার মিছিলে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় একজন আহত হয়। হামলাকারীরা তার নিজের এবং কর্মী-সমর্থকদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

ঢাকা মহানগর বিএরপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবিবার দুপুরে ওয়ারী থানার বলধা গার্ডেন এলাকায় পোস্টার লাগানোর সময় বিএনপির ৪ জন কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ দিকে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ফটকে রবিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রতীক নৌকার পোস্টার লাগানো নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান, মেয়র প্রার্থীর ও ঐ এলাকার কাউন্সিলর এনামুল হকের প্রতীকের পোস্টার লাগানো হয় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে। এতে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। বিষয়টি নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর জাগিনগর রোডে বিএনপির মহিলা প্রার্থী মেহেরুন্নেছার নির্বাচনি ক্যাম্পে হামলা হয় রবিবার দুপুরে। এতে শ্রমিক দলের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম আহত হন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সমর্থনে এবারও প্রার্থী হওয়া আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ঐ ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়া ভুট্টু।

দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস অভিযোগ করেছেন, শনিবার সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ মিশন রোডে তার গণসংযোগে ‘হামলা করেছে’ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। তাপস শান্তিনগর কাঁচাবাজার থেকে তৃতীয় দিনের নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরুর আগে সাংবাদিকদের সামনে হামলার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শনিবার আর কে মিশন রোডে নির্বাচনী প্রচারের এক পর্যায়ে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাসাতেও আমি গিয়েছি। সেখানে সকলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি, ভোট প্রার্থনা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা সেখান থেকে চলে আসার পর সন্ধ্যার দিকে তারা অতর্কিতে আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীসহ গণসংযোগে যারা ছিল তাদের ওপর আক্রমণ করেছে।