অবৈধ টাকায় নির্বাচন করে কেউ কেউ টিকে থাকতে চান :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অন্যায়ভাবে উপার্জনের টাকায় অনেকে নির্বাচন করে গায়ের জোরে টিকে থাকতে চান। তবে অন্যায় যেই করুক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেই ব্যক্তি সমাজের অধিপতি হোক, রাজনীতিবিদ হোক কিংবা নির্বাচনের জনপ্রতিনিধি হোক ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার (ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও টিভিসি) উদ্বোধন করতে এসে গতকাল রবিবার একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদের অংশ নেওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে ক্যাসিনো ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতায় নাম আসে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদের। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি লড়ছেন। তার স্ত্রী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখীও এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করছেন।

ক্যাসিনোর টাকায় কেউ কেউ নির্বাচন করছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কাউকে ছাড় দিব না। তিনি রাজনীতিবিদ হোক আর জনপ্রতিনিধি হোক। যারাই অন্যায় করবেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, মাদক ও ধূমপানের বিরুদ্ধে আমাদের প্রচেষ্টার কারণে আজ তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আজ কেউ প্রকাশ্যে  ধূমপান করে না। কেউ করলে আড়ালে গিয়ে করে।

মাদকবিরোধী অভিযান স্তিমিত হয়েছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযান মোটেও স্তিমিত হয়নি। যারা মাদকব্যবসা করে, মাদক ব্যবসায় বিনিয়োগ করে, বড়ো বড়ো মাদক সম্রাটদের সবাইকেই ধরা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি আমরা দেশে মাদকের চাহিদা কমানোর চেষ্টা করছি। তারই অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান (টিভিসি উদ্বোধন)।

অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, মাদক সংক্রান্ত সবকিছু এখন থেকে ডিজিটালি পাওয়া যাবে। টিভিসি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান বলেন, কেউ যদি আত্মহত্যা করতে চায় তাহলে সে যেন ধূমপান অথবা মাদক সেবন শুরু করে। মাদক এমনই ভয়াবহ।