র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত আহত দুই

মালিবাগে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সৈয়দ ইকবাল আহমেদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নিহতের স্ত্রী রাফিকা জেসমিন ও শ্যালক মাশনুর হাসান। তাদেরকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গতকাল রবিবার সকালে মালিবাগ রেলক্রসিংয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত সৈয়দ ইকবাল এবং তার স্ত্রী ও শ্যালক মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ লাখ ইয়াবা, নগদ টাকা, একটি পিস্তল। নিহত সৈয়দ ইকবাল আহমেদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী শামীম আরা শারমিন থাকেন উত্তরখানে। সেখানে একটি ফার্মেসিতে চাকরি করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী রাফিকা জেসমিন থাকেন আদাবরে।

গতকাল বিকালে প্রথম স্ত্রী শারমিন ও কলেজ পড়ুয়া ছেলে রাব্বি মর্গে লাশ নিতে আসেন। এ সময় রাব্বি সাংবাদিকদের বলেন, তার বাবা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করতেন বলে জানতেন তারা। ইয়াবা ব্যবসার বিষয় তাদের জানা নেই।

র্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য ছিল আদাবরের এক ইয়াবা কারবারি শনিবার রাতে কক্সবাজার থেকে বাসে ইয়াবার বড়ো চালান নিয়ে ঢাকায় ঢুকবেন। এই তথ্যে র্যাব-২ এর একটি টিম রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থান নেয়। ভোরে সোহাগ পরিবহনের একটি বাস তাদের সন্দেহ হয়। এর পরই গাড়িটির পিছু নেয় র্যাব। মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সেটি থামে। সব যাত্রী নেমে চলে যায়। এর মধ্যে ১৪টি লাগেজ নিয়ে ইকবাল কাউন্টারের পাশে রাস্তায় অপেক্ষা করেন। সকাল ৭টার দিকে দুটি প্রাইভেটকার এবং রাফিকা জেসমিন ও মাশনুর হাসান আসেন সেখানে। র্যাব তাদের চ্যালেঞ্জ করলে র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালান ইকবাল। র্যাবও পালটা গুলি চালায়। এতে ইকবাল, জেসমিন ও মাশনুর গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ইকবালকে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। জেসমিন ও মাশনুর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এ সময় লাগেজ তল্লাশি করে ১ লাখ পিস ইয়াবা, ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ও একটি পিস্তল জব্দ করা হয়। পরে দুপুরে আদাবরে ইকবালের বাসায় অভিযান চালিয়ে আরো ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো জানান, ইকবাল কক্সবাজার থেকে সরাসরি ইয়াবা আনতেন ঢাকায়। আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাইকারি বিক্রি করতেন। জেসমিন তার অন্যতম সহযোগী। জেসমিনের ভাই মাশনুর ভাটারা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।