ভাঙ্গায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বগাইল নামক বাসস্ট্যান্ডের পাশ থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম শহীদুল ইসলাম। সে ফরিদপুর সদরের কোতয়ালী থানার ২নং হাবেলী গুহ লক্ষীপুর এলাকার রতন মোল্লার ছেলের। সোমবার সকালে বিশ্বরোডের পাশে অজ্ঞাত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় জনতা ভাঙ্গা থানায় খবর দেয়। তখন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

থানার উপ-পরিদর্শক বাকির হোসেন জানান, লাশের পাশে পড়ে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তার নাম শহীদুল ইসলাম ওরফে কালা মানিক। জানতে পেরেছি তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন ধরণের একাধিক মামলা রয়েছে। 

এ ব্যাপারে নিহত কালা মানিকের মাতা বেলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রহস্য উৎঘাটনের জন্য ও প্রকৃত আসামিকে আটক করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

দুবৃর্ত্তরা কালা মানিককে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে যায়। কেন বা কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে বলে পুলিশ জানায়।

হত্যা মামলার বাদী নিহত কালা মানিকের মাতা বেলী আক্তার বলেন, ‘তার ছেলে ফরিদপুর শহরে ঠিকাদারী ব্যবসা করতো এবং পাশাপাশি বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। রাজনীতি করার কারণে তাকে অসংখ্য মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন জেল খাটতে হয়েছে। সম্প্রতি একটি অস্ত্র মামলায় জেল খেটে বেরিয়ে আসে সে। রবিবার বিকালে আমার ছেলে সুমন নামের একটি ছেলের সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে আমাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার কুতুবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমরা পরিবারের কেউ যোগাযোগ করতে পারি নাই। ফরিদপুর শহরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক কারণে এবং গ্রামের বাড়িতে জায়গা জমি নিয়ে চাচাদের সঙ্গে মনোমালিন্য থাকার কারণে আমার ছেলের জীবন সংকটে ছিল। প্রতিপক্ষরা আমার ছেলেকে বাঁচতে দিল না।’

আরও পড়ুন: হেলিকপ্টারে করে বনের প্রাণীদের খাবার দেওয়া হচ্ছে

নিহত কালা মানিকের ভাই অনিক মোল্লা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা ফরিদপুর শহরে বসবাস করি। আমার ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে আমার ভাইয়ের গণ্ডগোল চলছিল। আমার ভাইয়ের ছোট ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।’

ইত্তেফাক/নূহু