ইন্দোনেশিয়ার এক গ্রাম। সেই গ্রামের শেষ কোণে ছিল এক সন্ন্যাসীর কুঁড়েঘর। গাঁয়ের মানুষজনকে সে এড়িয়ে চলত। সন্ন্যাসীর ছিল মা-হারা এক ভাগনি। নাম ডলি।
ডলি সন্ন্যাসীর খোঁজখবর রাখত। এমনকি তাঁকে খাবারও এনে দিত। গাঁয়ের মানুষ তা জানত না।
একসময় সন্ন্যাসী আর ডলির মধ্যে নির্ভরতার সম্পর্ক তৈরি হয়।
একবার গাঁয়ে ভীষণ খরা হয়। তিন বছরের খরায় গাঁয়ের মাটি পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। জমিতে আর ফসলই হয় না।
গ্রামবাসী ঈশ্বরকে জোরগলায় বলে, ‘কেন আমাদের শাস্তি দিচ্ছ?’
খরা থেকে রেহাই পেতে গাঁয়ের মানুষ এক সভা ডাকে। সভায় ঠিক হয়, গাঁয়ের রীতি অমান্যকারীকে শাস্তি পেতে হবে। তাকে খুঁজে বের করা হোক।
গাঁয়ের মানুষ অনেক দূরে পাহাড়ে সন্ন্যাসীর কুঁড়ে খুঁজে পায়।
গাঁয়ের লোকজন সন্ন্যাসীর কুঁড়ের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলে, ‘ডলিকে বের করে দাও।’
কুঁড়ে থেকে কোনো শব্দ নেই। গাঁয়ের উন্মত্ত মানুষ কুঠার আর মোটা লাঠি দিয়ে কুঁড়ের বেড়া ভেঙে ফেলে।
গ্রামবাসী আচমকা থমকে যায়। তারা আশ্চর্য হয়ে দেখে, কুঁড়ের ওপর এক টুকরো উজ্জ্বল রঙিন মেঘ লেজের মতো আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে।
মেঘের মাঝে বসে ডলি ও সন্ন্যাসী গল্প করছে। আর তাদের পালাবার পথেই তৈরি হয়েছে সুন্দর রংধনু। আর রংধনুর সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি।
রূপান্তর : কুতুব আজাদ