কমলগঞ্জে থামছে না টিলা কাটা

পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

মৌলভীবাজারের বনাঞ্চল ও পাহাড়ি টিলা পরিবেষ্টিত কমলগঞ্জ উপজেলা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক টিলা কাটা চলছে। উপজেলার সদর উবাহাটা গ্রামে লিজকৃত টিলা কেটে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গায়ও টিলা কাটার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উবাহাটা গ্রামের আব্দুল কাদির একটি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুবিধার অজুহাতে বিশাল টিলা কেটে সমান করছেন। তিনি পাহাড়ি টিলার লাল মাটি কেটে নিজের বাড়ির ভিটে ভরাট ও মাটি বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত কয়েকদিন যাবত্ বনাঞ্চল সংলগ্ন এই টিলা কেটে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। উবাহাটা গ্রাম ঘেঁষেই কালাছড়া ও লাউয়াছড়া বনাঞ্চল। কয়েক মাস আগেও ঐ এলাকায় টিলা কাটার ফলে মাটি ধসে এক গৃহিণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নেও কয়েক মাস আগে টিলা কাটার অভিযোগ পেয়ে ইউএনও সরেজমিনে গিয়ে মাটি কাটার যন্ত্রাংশ জব্দ করেন। এছাড়া সদর ইউনিয়নের কালাছড়া বনের টিলা কেটে বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে। রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা এলাকায়ও পাহাড়ি টিলা কাটার খবর পাওয়া গেছে। তবে গত সপ্তাহে রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে গিয়ে টিলা কাটা বন্ধ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

অবাধে টিলা কাটার ফলে ধসে পড়ছে টিলার মাটি। তাছাড়া নিচু জমি ভরাট, মাটি বিক্রি করা এসব নানা তত্পরতার ফলে বিলীন হচ্ছে পাহাড়ি টিলাভূমি। বন্যপ্রাণির চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, মাটির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশের জন্য পাহাড়ি টিলাভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে অব্যাহতগতিতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি টিলাভূমি কেটে ফেলায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অভিযোগ বিষয়ে উবাহাটা গ্রামের আব্দুল কাদির বলেন, খরিদ সূত্রে টিলার মালিক আমি। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভূমি অফিস ও ইউএনওকে জানিয়ে টিলা কাটছি। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, টিলা কাটার অনুমতি দেওয়ার আমার কোনো অধিকার নেই। কে বা কারা টিলা কাটছে তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।