শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

উখিয়া ও চন্দনাইশে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

উখিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ায় তাদেরকে আর্থিক দৈন্যদশায় ভুগতে হচ্ছে। হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগ—ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন গ্রামীণ জনপদের শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে কৃষি কর্মকর্তা আবুল মাসুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ঘন কুয়াশার কারণে শাকসবজি খেত বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া শাকসবজির তরতাজা পরিবেশ নুয়ে পড়ার কারণে সবজি চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

স্থানীয় উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার রহমতউল্যাহ জানান, শীতের তীব্রতায় ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। তিনি বলেন, সোমবার ৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, তার মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ২৫, ডায়রিয়া রোগী ২৮ জন ও অন্যান্য সংক্রামক রোগী ২৭ জন। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ক্লিনিকে দায়িত্বরত চিকিত্সক অজিত বড়ুয়া জানান, ঠান্ডায় রোহিঙ্গারা জবুথবু হয়ে পড়েছে, বেড়েছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাদের চিকিত্সা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এদিকে চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের চন্দনাইশে শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতের কারণে মানুষ ঘর  থেকে বের হতে পারছে না। শীতের তীব্রতার কারণে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়া রোগীর ভিড় জমছে হাসপাতালে। চন্দনাইশ সদর ও দোহাজারী হাসপাতালে প্রতিদিন ইনডোর এবং আউটডোরে প্রায় দুই শতাধিক রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. শাহিন হোসাইন চৌধুরী।