স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ও হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় আবিষ্কৃত লোহার খনির মজুত ও পরিধি তৃতীয় পর্যায়ের কূপ খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের মুর্শিদপুর গ্রামে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে কূপ খনন করে জরিপ কার্যক্রম চালায় জিএসবি। এ সময় সেখানে লোহার আকরিকের সন্ধান পায় অনুসন্ধানকারী দল, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম। এর ওপর ভিত্তি করেই গত বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে খনিজসম্পদ অনুসন্ধানে কূপ খনন করে দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপ কার্যক্রম চালায় অনুসন্ধানকারী দল। এ সময় অপেক্ষাকৃত কম গভীরতায় দেশের প্রথম লৌহজাতীয় খনির সন্ধান মেলে। ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে শুরু করে ১ হাজার ৭৫০ ফুট পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ফুটের ওপরে লৌহ আকরিকের স্তর পাওয়া যায়। এর সঙ্গে আরো অন্য পদার্থের সন্ধান মিলে। এ তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে একই ইউনিয়নের ভাটারা এলাকায় খনির মজুত ও ব্যাপ্তি নির্ণয়ে তৃতীয় পর্যায়ের ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছে জিএসবি। উদ্বোধনের পর থেকে ৩০ সদস্যের একটি দল তিনটি শিফটের মাধ্যমে দিন-রাত সমান তালে খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, আগামী তিন থেকে চার মাস ধরে চলবে এই কার্যক্রম। এ ধরনের ১০ থেকে ১২টি কূপ খনন কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানিয়েছে জিএসবি কর্তৃপক্ষ।
দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, আমরা এখানে যে লোহার খনির সন্ধান পেয়েছি, তা নিশ্চিত করতে জরিপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তৃতীয় পর্যায়ের খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন বলেন, গত বছর হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ইশবপুরে যে লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, সেটি কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ও কী পরিমাণ মজুত রয়েছে তা আমাদের যাচাই করতে হবে। এজন্য আরো ১০ থেকে ১২টি খনন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এর আগে আমরা কিছু বলতে পারবো না বা আমাদের বলার এখতিয়ার নেই। তিন থেকে চার মাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দেব। এরপর সরকার পরবর্তীতে ঘোষণা দেবে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।