সংসদে শোকপ্রস্তাবের
আলোচনায় এমপিরা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাগেরহাট-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম মোজাম্মেল হোসেনের সম্মানে জাতীয় সংসদের বৈঠক মুলতবি করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। গতকাল সোমবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে অধিবেশন শুরুর পর শুক্রবার ইন্তেকাল করা মোজাম্মেল হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার। চলমান একাদশ সংসদের এই সদস্যের মৃত্যুতে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন ও দিনের অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করে স্পিকার আজ মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত সংসদের বৈঠক মুলতবি করেন।
শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়া সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, মরহুম ডা. মোজাম্মেল ছিলেন একজন সাদামনের মানুষ। বয়োজ্যেষ্ঠ হলেও ছোটো-বড়ো সবার সঙ্গে তিনি বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, মার্জিত ও সদা হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। বিনা মূল্যে মানুষকে চিকিত্সা সেবা দিতেন। তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা, গরিবের বন্ধু। মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অটল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনটি আওয়ামী লীগের। ১৯৯১ সাল থেকে মোজাম্মেল হোসেনই আসনটি ধরে রাখেন। তার ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার নির্যাতনেরও শিকার হন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, অমায়িক ও ভদ্র মানুষ হিসেবে তার কোনো তুলনা হয় না। বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা চালুকরণে তার বড়ো ভূমিকা ছিল।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে তিনি সহজ-সরল আচরণ করতেন। তিনি ছিলেন সবার কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, মরহুম মোজাম্মেল হোসেন ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন ও আপাদমস্তক রাজনীতিক। এলাকার মানুষের সঙ্গে তার ছিল গভীর সম্পর্ক, তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি সবসময় তরুণ মনের, আদর্শ-নীতিবান মানুষ ছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন সমাজসেবক, সদালাপী, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী। শোকপ্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন—নুরুজ্জামান আহমেদ, শাজাহান খান, মৃণাল কান্তি দাস, আ স ম ফিরোজ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আবদুস শহীদ, ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
আলোচনা শেষে মরহুম মোজাম্মেল হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্পিকারসহ উপস্থিত এমপিরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন। পরে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।