সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব :তাপস

আসন্ন সিটি নির্বাচনের জন্য জোর প্রচারণায় নেমেছে ১৪ দলীয় জোট। গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, সোবহানবাগ ও ধানমন্ডি এলাকায় ১৪ দলের কয়েক শত নেতাকর্মী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে ভোট চান। এই টিমে নেতৃত্ব দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ও জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা। 

রাজধানীর মানিকনগর বাসস্ট্যান্ডে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাপস সাংবাদিকদের বলেন, বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার পাঁচ পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের ব্যাপক সাড়া মেলায় নবযাত্রার সূচনা হয়ে গেছে। মেয়র নির্বাচিত হলে ৯০ দিনের মধ্যে নাগরিকদের সব মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে একটি দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমার লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় কোনো কাজ করার পর     অন্তত তিন বছর অন্য সংস্থা সেখানে কাজ করতে পারবে না। তাপস বলেন, উন্নত ঢাকা গড়তে ত্রিশ বছরের মহাপরিকল্পনা নিচ্ছি। তার আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসন করে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করব। জনদুর্ভোগ থেকে ঢাকাবাসীকে পরিত্রাণ দিতে কাজ করা হবে। তিনি আরো বলেন, গণসংযোগে ঢাকাবাসীর থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ঢাকাবাসী সাদরে আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে। ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা গড়তে চাই। আশা করি ৩০ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ঢাকাবাসী সুন্দর ঢাকা গড়ার জন্য আমাকে তাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করবে। নগরে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ব্যাপারে সব সংস্থার কাছ থেকে বছরের শুরুতেই চাহিদা নেওয়া হবে। তাদের কাজ শেষ হলে সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করবে। মানিকনগর, মান্ডা, মুগদা, বাসাবোর বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে প্রচারপত্র বিলি করেন শেখ ফজলে নূর তাপস। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন একসময়ের বাংলা সিনেমার সাড়া জাগানো নায়িকা ও নৃত্যশিল্পী অঞ্জনা। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর বাসস্ট্যান্ডে যুব মহিলা লীগের মিছিলে দেখা মেলে এ নায়িকার।

আতিকুলের গণসংযোগ: রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের সামনে থেকে চতুর্থ দিনের মতো মেয়র প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ শুরুর সময় আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী জনগণ ও ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যাচার শুরু করেছেন। বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল অভিযোগ করেছেন তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে আতিকুল ইসলাম বলেন, বিরোধী পক্ষকে বাধা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছি। তবে বিরোধী পক্ষ আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যাচার করছে। অতীতেও তারা মিথ্যাচার করেছে। তিনি বলেন, আসার পথেই দেখলাম, ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে ভোট চাচ্ছে, আমরা তো কোনো বাধা দেইনি। বিরোধী পক্ষ একের পর এক মিথ্যাচার করছে। আমরা প্রতিটি মানুষের কাছে যাচ্ছি এবং ভোট চাচ্ছি। সাধারণ পথচারী, ভোটার ও সবার উদ্দেশে আতিকুল ইসলাম বলেন, উন্নয়নের যে ধারা তা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। আমাকে যদি আপনারা নির্বাচিত করেন তাহলে সবাই মিলে ঢাকাকে সুস্থ, সচল ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখে ‘সুস্থ, সচল ও আধুনিক’ ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। প্রথমে মাদকমুক্ত ঢাকা শহর গড়ে তুলতে কাজ শুরু করব। এছাড়া সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত, নারীবান্ধব সবুজ ও সচল ঢাকা গড়ার কাজ করব ইনশাআল্লাহ। এ সময় সাধারণ পথচারী, যাত্রী, রাস্তার পাশে দোকানে ভোটারদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ভোট চান তিনি। খিলগাঁও তালতলা মাটির মসজিদের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করে আবুল হোটেল, রামপুরা ঘুরে বাড্ডা এলাকার আলাতুন্নেসা মাদ্রাসা হয়ে মধ্য বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোট চান আতিকুল ইসলাম। শুরু করা কাজ ‘এগিয়ে নিতে’ আবার মেয়র হতে চান আতিক।

থিম সং উদ্বোধন:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ শিরোনামে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী থিম সংটি তৃণমূলে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, সেটিই কিছুটা পরিমার্জন করে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের উপযোগী করে প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে এই থিম সংটি উদ্বোধনকালে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, ২০১৮ সালে আমরা জয় বাংলার যে থিম সংটি করেছিলাম, সেটা সবার মাঝে খুবই সাড়া জাগিয়েছিল। এটিও সাড়া জাগাবে বলে সবাই আশা প্রকাশ করেন।