দেশের গোল আলু উত্পাদনের অন্যতম বৃহত্ অঞ্চল মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলা। এলাকার চাষিরা আলু চাষে তাদের অনেক পুঁজি খাটিয়েছেন; অনেকে ঋণ করে, এমনকি সম্পদ বন্ধক রেখেও এই ফসলটির চাষ করছেন। একটাই আশা বিনিয়োগকৃত টাকা ভালো লাভসহ ফেরত আসবে। তাই আলুক্ষেতের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত এ অঞ্চলের কৃষক। দিনের অধিকাংশ সময়ই চাষিরা জমির দিকে নজর রাখছেন। যাতে আলুগাছে কোনো রোগবালাই না হয় কিংবা পোকামাকড়ে আক্রমণ করতে না পারে। জমিতে এজন্য তারা কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ করছেন, ক্ষেতে পানি দিচ্ছেন। তবে টানা কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহে আলুচাষিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অবশ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এখন পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ও শৈত্যপ্রবাহে সিরাজদিখানে আলুর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এ অবস্থা চলতে থাকলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এত দুশ্চিন্তা সত্ত্বেও গেল কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় বুক বেঁধে আছেন সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ৩ হাজার আলুচাষি। সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে মার্চের শুরুতেই উপজেলার গ্রামগুলোতে আলু উত্তোলন শুরু হয়ে যায়। তবে এ বছর জমি চাষাবাদের উপযোগী হতে দেরি হওয়ার কারণে বীজ বপনেও কিছুটা দেরি হয়ে যায়। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আলু উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলার বাসাইল গ্রামের আলুচাষি সোহরাব হোসেন জানান, এবার তিনি ১২ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত ফসল ভালো আছে। মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় ফসল ভালো হয়েছে। জমিতে পানি দেওয়ার খরচ বেঁচে গেছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে আলুর রোগবালাই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য কৃষি অফিসের পরামর্শে তারা জমিতে নিয়মিত বালাইনাশক স্প্রে করছেন।
এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও এলাকায় শ্রমিকসংকট রয়েছে। তাই আলু উত্তোলন শুরুর আগেই চাষিরা দেশের উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আলু উত্তোলনে উত্তরাঞ্চলের শ্রমিকদের বেশ চাহিদা রয়েছে এখানে। জমি আলু রোপণের উপযোগী ও আলু উত্তোলন করে বস্তায় ভরা থেকে শুরু করে কোল্ড স্টোরেজে নিতে কিংবা বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে নেওয়াসহ সব ধরনের কাজ করে থাকেন তারা। সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ রায় জানান, ‘মাটি ও জলবায়ু অনুকূলে থাকায় এ বছরও সিরাজদিখানে লক্ষ্যমাত্রার বেশি আলুর ফলন হবে বলে ধারণা করছি। এ বছর সিরাজদিখান উপজেলায় ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে।