সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিধিমালা যারা প্রণয়ন করেছেন, তারাই এখন এর বিরোধিতা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্ট করতে পরিপত্র জারির দাবি জানিয়েছে তিনি। এতে মাহবুব তালুকদার নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে না পারলে নির্বাচন কমিশন আস্থার সংকটে পড়বে।
সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নতুন আনঅফিসিয়াল (ইউও) নোটে তিনি এই দাবি জানান। পরে এই বিষয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে ইউও নোটটি লিখিতভাবে পাঠ করেন।
গত ৯ জানুয়ারির ইউও নোটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নতুন ইউও নোটে মাহবুব তালুদকার বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচনি প্রচারণা ও কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিয়ে আমি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি প্রচারণা ও নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিয়ে সেই উদ্বেগ বর্তমানে আরো ঘণীভূত হয়েছে। কারণ গত কয়েকদিনে বিধিমালা নিয়ে নানাপ্রকার বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পর্কিত যে কোনো কমিটিতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এই নির্বাচনি কার্যক্রম ঘরে বা বাইরে যে কোনো স্থানে হতে পারে। এ বিষয়ে আচরণ বিধিমালা, ২০১৬ -এর বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। সর্বাধিক দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এই বিধিমালা যারা প্রণয়ন করেছেন, তারাই এখন এর বিরোধিতা করছেন।
বিভ্রান্তি নিরসনে পরিপত্র জারির কথা অত্যাবশ্যক উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার ইউও নোটে বলেন, আচরণ বিধিমালা সম্পর্কে যাতে কোনোপ্রকার বিভ্রান্তির অবকাশ না থাকে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনাসহ একটি পরিপত্র জারি করা যেতে পারে।
গত ৯ জানুয়ারি ইউও নোটে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহবুব তালুকদার বলেছিলেন, মন্ত্রী-এমপিরা প্রচারণায় অংশ নিলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিনষ্ট হবে।