নতুন বছরের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আবর্তনের শিক্ষার্থীরা এসেছে। প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে উচ্চমাধ্যমিকের পর তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও। নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে লাল সবুজে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। সেই সব নবীন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পদার্পণের অনুভূতি জানাচ্ছেন— ইকবাল হাসান
অমিত লাল দাশ, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ:আমি বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ ছাত্র- ছাত্রীদের মধ্যে একজন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসি তখনি মনে হয়েছিল, ইশ! যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পারতাম। আমার আশা পূরণ হয় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই। যেদিন আমি ভর্তি হতে আসি সেদিন থেকেই বড়ো ভাইদের পাশে পাই। ১ জানুয়ারি বিভাগভিত্তিক নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম দিনেই সকল বড়োভাই আপুদের সাহচর্যে এসে আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সঠিকভাবে চলার দিকনির্দেশনা পাই।
ওমর ফারুক, মার্কেটিং বিভাগ:বিশ্ববিদ্যালয় একটা বড়ো স্বপ্নের নাম। প্রথম যখন জানতে পারি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি তখন আনন্দ অনুভূত হয় কিন্তু পরক্ষণে পরিবার ছেড়ে যাব, এই চিন্তা করে খারাপ লাগা শুরু করে। বন্ধু, বড়োভাই ও আরো অন্যরা যারা আমার মতো পরিবার ছেড়ে এসেছে তাদের কথা শুনে নিজেরও খারাপ লাগে। বাড়ি ছেড়ে আসার পর সব বন্ধুদের একসাথে থাকার নতুন অভিজ্ঞতা স্মৃতিপটে আজীবন স্মরণ থাকবে।
মারজিয়া আহমেদ রিয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ : জীবনের অনেকগুলো ধাপ পার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসে পৌঁছেছি। শিক্ষা অর্জনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়েছে কিন্তু কখনোই পরিবারের বাইরে থাকতে হয়নি। প্রথমবার পরিবারকে ছেড়ে এসেছি উচ্চশিক্ষার জন্য। পরিবারকে ছেড়ে এসে নতুন আরেকটি পরিবার পেয়েছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হই বারবার। এই কয়েকদিনে পরিবারকে ছেড়ে আসার দুঃখ ভুলে ক্যাম্পাসেই মেতে উঠেছি।
ইসরাত জাহান সুজানা, অর্থনীতি বিভাগ :আমার অনেকগুলো স্বপ্নের মধ্যে একটি হলো, দেশের যেকোনো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ক্লাস করার জন্য খুবই উত্তেজিত ছিলাম। উচ্চমাধ্যমিকে থাকতেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা তৈরি হয়েছিল। এখন ভর্তি হয়ে কিছু ধারণা মিলেছে কিছু ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। র্যাগিং নিয়ে একটা ভীতি কাজ করত। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় র্যাগিং নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা শুনেছি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সিনিয়রদের কাছ থেকে অবিশ্বাস্য রকমের সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি।