অলোক কুমার মিস্ত্রী, প্রভাষক
জীববিজ্ঞান বিভাগ
সরকারি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, পিরোজপুর।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের ১০ ও ১১ অধ্যায়ের মানবদেহের প্রতিরক্ষা এবং জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন -বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করবো।
সৃজনশীল প্রশ্ন :
বিয়ের পর গীতা বোঝতে পারল তার স্বামী কিছু বর্ণ চিনতে পারে না, শ্বশুর শ্বাশুড়ীর কারো মধ্যে এই সমস্যা নেই। গীতা ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে দেন এবং গীতার সন্তান ছেলে ও মেয়েতে বিষয়টি প্রকাশের সম্ভাবনাও ব্যাখ্যা করেন।
(ক) ইমিউনিটি কী ? ১
(খ) মানবদেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা লেখ।২
(গ) গীতার স্বামীর রোগের কারণ ও উত্স ব্যাখ্যা কর। ৩
(ঘ) উদ্দীপকের বিষয়টি পুত্র ও কন্যা সন্তানে প্রকাশের সম্ভাবনা ভিন্ন-যুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ কর। ৪
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ
(ক) ইমিউনিটি : দেহের ভেতরে ও বাইরের রোগ জীবাণু ধ্বংসের ক্ষমতাই হলো ইমিউনিটি।
(খ) উত্তর: ত্বক মানবদেহে জীবাণুর প্রবেশ বন্ধ করে, সংক্রমণের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করে থাকে। আসলে মানুষের ত্বকের বাইরের স্তর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের প্রবেশের ভৌত প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে থাকে। ত্বকের মেদগ্রন্থি ও ঘর্ম ত্বককে এসিডিয় করে রাখে, যা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। মেদ ও ঘর্মগ্রন্থির ভেতরে জীবাণুনাশক পদার্থ থাকে, যা আত্মরক্ষায় জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
(গ) উত্তর : গীতার স্বামীর মূলত: বর্ণান্ধ রোগ হয়েছে। তিনি কিছু কিছু বর্ণ চিনতে পারেন না। মানুষের চোখের রেটিনায় বর্ণসংবেদী কোন কোষ উত্পাদনের জন্য একটি প্রকট সেক্র-লিংকড জিন প্রয়োজন হয়। এ জীনের প্রচ্ছন্ন অ্যালীল বর্ণসংবেদী কোন কোষ উত্পাদনে অক্ষম। সুতরাং গীতার স্বামী বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন সেক্র-লিংকড অ্যালীলের উপস্থিতি। এ প্রচ্ছন্ন অ্যালীলটি পুরুষে উপস্থিত থাকলেই সে বর্ণান্ধ হবে। এটি একটি জিনগত বংশগতিয় রোগ। পিতা মাতার এ জিন থাকলে সন্তান-সন্তুতিতে এটি ক্রমান্বয়ে সঞ্চারিত হয়। সাধারণত: পিতা-মাতার কারো সেক্স ক্রোমোজোমে এ জিন থাকলে তাদের ছেলে-মেয়েদের এ রোগ হয়ে থাকে। গীতার স্বামীর মাতা বর্ণান্ধ বাহক বলে এই রোগ গীতার শ্বাশুড়ী থেকে গীতার স্বামীর দেহে সঞ্চারিত হয়েছে।
(ঘ) উত্তর : উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে গীতার স্বামী বর্ণান্ধ অর্থাত্ তিনি কিছু বর্ণ চিনতে পারেন না। যেহেতুে বর্ণান্ধ রোগের জন্য দায়ী জিন হচ্ছে সেক্স লিংকড প্রচ্ছন্ন অ্যালীল। তাই গীতার স্বামীর এ রোগ তাদের পুত্র সন্তানে প্রকাশের কোন সম্ভাবনা নেই। সুতরাং তাদের সব পুত্রসন্তানই স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হবে। অপরদিকে, পিতার এ জিন তার কন্যা সন্তানে প্রবেশ করবে। কেননা, এটি সেক্স লিংকড জিন। কিন্তু প্রচ্ছন্ন এই সেক্স-লিংকড জিনটি কেবলমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থায় তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে। যেহেতু গীতা স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন তাই গীতার কন্যা সন্তানও স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন হবে। কিন্তু তার কন্যা সন্তান বর্ণান্ধ রোগের বাহক হবে এবং কন্যা সন্তানগুলো পিতা থেকে প্রাপ্ত বর্ণান্ধ জিনটি বহন করবে বলে এরা বর্ণান্ধতার বাহক হবে। সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্ণান্ধতার বিষয়টি পুত্র ও কন্যা সন্তানে প্রকাশের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।