আলোকপাত

অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র শিল্পের সংকট সমাধান জরুরি

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র শিল্প বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তার অতীত ঐতিহ্য ক্রমেই হারাতে বসেছে। একসময় এ দেশে অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র শিল্পের রমরমা অবস্থা ছিল। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের মোহাম্মদপুর এলাকায় ১৯৫৮ সালের দিকে তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শফি সর্বপ্রথম ‘খলিল মেটাল’ নামে অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের কারখানা চালু করেন। সেই থেকে আমাদের দেশে অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র শিল্পের সূচনা ঘটে। তারপর ধীরে ধীরে এখানে আরো অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের অ্যালুমিনিয়াম শিল্পটি চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। চট্টগ্রামের মির্জারপুল এলাকায় অবস্থিত অ্যালুমিনিয়াম কারখানাগুলোতে উত্পাদিত অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র সারা বাংলাদেশে সরবরাহ করা হতো এবং এখনো হচ্ছে। লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় এই শিল্পে অনেকেই এগিয়ে আসেন।

কিন্তু বর্তমান সময়ে অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের বিকল্প স্টেইনলেস স্টিল, মেলামাইন, প্লাস্টিক, সিরামিক, কাচের তৈজসপত্রের শিল্প গড়ে ওঠায় অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের চাহিদা কমে যায়, যে কারণে অনেকেই এ শিল্প থেকে সরে যান। বর্তমানে এখানে ১২০টি অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের কারখানা রয়েছে। এখন এখানে দৈনিক ১৫ থেকে ১৬ হাজার কেজি অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র উত্পন্ন হচ্ছে। এক হিসাবে জানা যায়, বর্তমানে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই, সসপ্যান, কলসিসহ বিভিন্ন সামগ্রীর বছরে উত্পাদন হচ্ছে ৬০ লক্ষ কেজি। চট্টগ্রামের অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র শিল্প উদ্যোক্তারা জানান চট্টগ্রাম, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বছরে ২০০ কোটি টাকার অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র বেচাকেনা হয়। উদ্যোক্তারা আরো জানান, চট্টগ্রামে উত্পাদিত অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের মান অনেক উন্নত।

বিদেশে ও আমাদের অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের বেশ চাহিদা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানে চট্টগ্রামের অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র শিল্পে বিরাট ধস নেমেছে। চট্টগ্রামের মির্জারপুল এলাকায় যেখানে সব কারখানা অবস্থিত, সেখানে জমির মালিকেরা কারখানার মালিকদের জায়গা ছেড়ে দিতে বলছেন। কারণ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানে বড়ো বড়ো অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে উঠছে। জমির মালিকেরা বেশি লাভের আশায় তারা তাদের জমি রিয়েল স্ট্যাটের মালিকদের কাছে ছেড়ে দিচ্ছেন। বর্তমানে এখানে অবস্থিত অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রের কারখানার মালিকেরা দিশেহারা অবস্থায় আছেন। তাদের স্বল্প পুঁজি দিয়ে নতুন করে জায়গা নিয়ে নতুন কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এই শিল্পকে রক্ষা করতে হলে এসব শিল্পের মালিকদের সরকারি খাস জায়গা বন্দোবস্ত দিয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিলে তারা তাদের অতীত ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ধরে রাখতে পারতেন। এই শিল্পের উদ্যোক্তারা যেসব সমস্যায় আছেন, সেগুলো সমাধানের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র শিল্প বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এ ব্যাপারে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

n লেখক : বীমা কর্মকর্তা