পূজার জায়গা ছেড়ে হবে নির্বাচন :ইসি সচিব

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেসব রুমে সরস্বতী পূজা হবে, সেগুলো বাদ রেখে বাকি রুমগুলোতে ভোটকক্ষ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। তিনি বলেছেন, সব স্কুলে পূজা হয় না। যেসব স্কুলে পূজা হবে, সেই জায়গাটা ছেড়ে দিয়ে অন্য রুমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। পূজার জায়গায় পূজা চলবে, নির্বাচনের জায়গায় নির্বাচন হবে। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার উচ্চ আদালতে রায় খারিজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমপিরা হয়তো আচরণবিধি না জেনে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে সিনিয়র সচিব           বলেন, পূজার জায়গায় পূজা চলবে। নির্বাচনের জায়গায় নির্বাচন চলবে। কারণ হলো যে নির্বাচন কমিশন আইন, সরস্বতি পূজা, এসএসসি পরীক্ষা—সমস্ত কিছু বিবেচনায় নিয়ে সর্বোত্তম দিন যেটা, সেই দিনটাই ঠিক করা হয়েছে।

উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া রিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের তারিখ নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষের কথা শুনেছে। তারাও বিবেচনা করে দেখেছে যে ৩০ জানুয়ারি সর্বোত্তম দিন। এটা তারা কনভিন্সড, যে কারণে বলেছে যে ৩০ জানুয়ারি ভোট করতে কোনো বাধা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—কেন এটা বলেছেন তা আমাদের বোগম্য হয়নি। তারাও জানেন যে, আইনশৃঙ্খলা মানতে হয়। সবাই সচেতন নাগরিক। নির্বাচনটি জমে উঠেছে। সবাই নির্বাচনমুখী। আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আশা করি না। এরপরও তারা আদালতে গেছেন। যে রায় এসেছে, তারাও নিশ্চয় তা মাথা পেতে নেবেন। ভুলভ্রান্তি থাকলেও সবাই হয়তো বুঝবে ৩০ জানুয়ারি ভোটের সিদ্ধান্ত বৃহত্তর স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। একটা সুন্দর দিন বেছে নেওয়া হয়েছে। কারোরই কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’

সচিব বলেন, ‘রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনেও দুর্গা পূজার দশমী ছিল। সেখানে তো কোনো সমস্যা হয়নি। নির্বাচনও হইছে, পূজাও হইছে একই প্রতিষ্ঠানে পশাপাশি। কোনো সমস্যা তো হয়নি।’

রায়ের পর শাহবাগে অবরোধ হওয়ার ঘটনায় মো. আলমগীর বলেন, ‘আদালত যেখানে রায় দিয়েছে, সেখানে আপনাদের-আমাদের-কমিশনের তো কোনো বিষয় না। রায়ের প্রতি তো তাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। তারা আপিল করলে করতে পারেন। আপিলের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। নির্বাচন ও পূজা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের তো কিছু নেই।’

নির্বাচনি প্রচারে এমপিদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘কমিশন সব দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সবাইকে বলা হয়েছে মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনী কাজে অংশ নিতে পারবেন না। তার পরও কেউ যদি অংশ নিয়ে থাকেন, তারা হয়তো জানেন না। আমরা সবাইকেই আচরণবিধি দিয়েছি। তারা হয়তো অনেক সময় পড়ে দেখেন না। তারা হয়তো না জেনেই এটা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘সড়কমন্ত্রী (ওবায়দুল কাদের) এমপিদের প্রচারকাজে অংশ নিতে নিষেধ করেছেন। তিনি একটা দলের সেক্রেটারিও। হয়তো কাল (বুধবার) থেকে আর কেউ লঙ্ঘন করবেন না। তবে আমরা এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ পাইনি।’

আচরণ প্রতিপালনের কঠোর নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আমি নিজেই কথা বলেছি। সমস্ত প্রার্থী যেন নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারেন। কাউকে যেন বাধা না দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী সবাই যেন সমান প্রচার করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। আমাদের কাছে যদি কোনো অভিযোগ আসে এবং প্রমাণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’